খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
গাজার উত্তরের বেইত হানুন শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ওপর হামাসের এক গেরিলা স্টাইলের অতর্কিত হামলায় পাঁচজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এতে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। এই হামলাটি ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে সংঘটিত হওয়ায় সেটি হামাসের কৌশলগত পুনরুদ্ধারের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ৭ জুলাই রাতে, নেতজাহ ইয়েহুদা ব্যাটালিয়নের সেনারা ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানবাহনের একটি কনভয়ে হেঁটে চলছিলেন। এ সময় প্রথমে দূরনিয়ন্ত্রিত একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিস্ফোরণ এবং হালকা অস্ত্র দিয়ে হামাস যোদ্ধাদের গুলিবর্ষণ শুরু হয়। হামলাকারীরা আশেপাশেই লুকিয়ে ছিল, কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা তা বুঝতেই পারেননি।
ঘটনাটি ঘটে বেইত হানুনে, যা ইসরায়েলের সদেরত শহর থেকে খালি চোখেই দেখা যায় এবং যা ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন বলে মনে করা হতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বোমাগুলো হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুঁতে রাখা হয়েছিল এবং পুরো অপারেশনটি ছিল তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পিত। হামাসের এই কৌশলগত পরিবর্তন তাদের দুর্বল অবস্থা থেকেও গেরিলা যুদ্ধে দক্ষতা প্রদর্শনের প্রমাণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডস এই হামলাকে “নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সফল অভিযান” বলে দাবি করেছে এবং একে ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবক্ষয়ের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে।
এর আগে, খান ইউনিসে হামাস একটি ইসরায়েলি সামরিক প্রকৌশল যানে রকেটচালিত গ্রেনেড হামলা চালায়। ওই হামলায় চালক নিহত হন এবং তাঁকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়, যা পরে ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিহত করে।
গাজায় এইসব হামলার বিপরীতে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ইসরায়েল খুব দ্রুত ও নিখুঁত অভিযান পরিচালনা করেছে এবং কোনো সেনা হতাহত হয়নি। তবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পরে গাজায় ফের সহিংসতা বেড়ে গেছে। বেইত হানুন হামলা সহ গত কয়েক সপ্তাহে গাজায় নিম্নতম ১৯ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানায় আইডিএফ।
দক্ষিণ গাজায় আরেক হামলায়, একটি ইসরায়েলি প্রকৌশল গাড়ির হ্যাচের ভিতরে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারা হলে ভিতরে থাকা সাতজন সেনা মারা যান। এটিকে আইডিএফ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইসরায়েলের সাবেক অপারেশনস প্রধান মেজর জেনারেল ইসরায়েল জিভ বলেন, হামাস তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনে ছোট ছোট গেরিলা ইউনিটে বিভক্ত হয়ে গাজার ভূগর্ভস্থ টানেল ব্যবহার করছে। ফেলে যাওয়া ইসরায়েলি গোলাবারুদের অংশ ব্যবহার করে তৈরি করছে বিস্ফোরক।
অন্যদিকে, সাবেক আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হার্জি হালেভি এর আগে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০ হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে হামাস নতুন যোদ্ধা নিয়োগ করে আবারও তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে।
দোহায় চলমান শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বিরোধ নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে গাজার সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হবে, নতুবা আবার যুদ্ধ শুরু হবে। হামাস অবশ্য তাতে রাজি হয়নি।
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, গাজায় সহিংসতা এখনো থামেনি এবং হামাসের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
খবরওয়ালা/টিএস