খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে মাঘ ১৪৩২ | ২২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আল-জাহরা এলাকায় সংঘটিত এক ইসরাইলি হামলায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকও রয়েছেন। এ ঘটনা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় সহিংসতার বাস্তব চিত্রকে সামনে এনেছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, আল-জাহরা এলাকায় একটি বেসামরিক যান লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে তিন সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করে দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত সাংবাদিকরা হলেন মোহাম্মদ সালাহ কাশতা, আবদুল রউফ শাআত এবং আনাস ঘনেইম। তাঁদের মধ্যে আবদুল রউফ শাআত ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কাজ করতেন, যদিও হামলার সময় তিনি সংস্থাটির কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করছিলেন না।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা মধ্য গাজায় হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোন পরিচালনাকারী কয়েকজন ‘সন্দেহভাজন’ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ড্রোনটি তাদের সদস্যদের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছিল। তবে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড্রোন বলতে তারা কী বোঝাচ্ছে বা নিহত ব্যক্তিরা কীভাবে সেই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলাটি নির্ধারিত কমান্ড চেইনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অবশ্য ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সাংবাদিকরা মিশরীয় একটি ত্রাণ সংস্থার সহায়তা কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। ত্রাণ বিতরণের দৃশ্য ধারণের জন্য তাঁরা একটি ড্রোন ব্যবহার করছিলেন এবং সে সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা বেসামরিক যানটিকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইসরাইলি বাহিনী ও হামাসের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আবারও জোরালো হয়েছে।
নিহত সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| নাম | পেশাগত পরিচয় | অবস্থান |
|---|---|---|
| মোহাম্মদ সালাহ কাশতা | স্থানীয় সাংবাদিক | গাজা |
| আবদুল রউফ শাআত | এএফপির ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক | গাজা |
| আনাস ঘনেইম | স্থানীয় ভিডিও সাংবাদিক | গাজা |
এই ঘটনাটি গাজায় চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্য এবং সংবাদকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।