খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে মাঘ ১৪৩২ | ২১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বেহালা এলাকায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অনিতা ঘোষ (৬৫) নিজ বাসভবনে তার গৃহকর্মীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) পর্ণশ্রী থানা এলাকার বেচারাম চ্যাটার্জি রোডের ‘প্রিয়দর্শিনী অ্যাপার্টমেন্টে’ এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনিতা ঘোষ তার স্বামী অরূপ ঘোষের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অরূপবাবু দীর্ঘদিন ধরে ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে দেখাশোনার জন্য এবং ঘরের কাজের জন্য একাধিক সাহায্যকারী নিযুক্ত ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে অনিতা ঘোষের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মুখ, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বাড়ির দুই গৃহকর্মী এবং একজন রাঁধুনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর সঞ্জু সরকার নামক এক গৃহকর্মী নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে, মূলত আর্থিক লেনদেনের বিবাদ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
অভিযুক্ত সঞ্জু সরকারের দাবি অনুযায়ী, তার কিছু বকেয়া টাকা পরিশোধ নিয়ে অনিতা ঘোষের সাথে বাদানুবাদ হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সঞ্জু ধারালো ছুরি দিয়ে গায়িকার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অনিতা দেবী অচেতন হয়ে পড়লে ঘাতক তার শরীরের সোনার গয়না খুলে নেয় এবং আলমারি ভেঙে নগদ অর্থ লুট করে চম্পট দেয়।
নিচে অনিতা ঘোষ হত্যাকাণ্ডের মূল তথ্যাদি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | অনিতা ঘোষ (৬৫) |
| পেশা | সংগীতশিল্পী (আকাশবাণী ও দূরদর্শন) |
| ঘটনাস্থল | প্রিয়দর্শিনী অ্যাপার্টমেন্ট, বেহালা, কলকাতা |
| হত্যাকাণ্ডের তারিখ | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (সোমবার) |
| প্রধান অভিযুক্ত | সঞ্জু সরকার (গৃহকর্মী) |
| প্রাথমিক মোটিভ | বকেয়া টাকা নিয়ে বিবাদ ও লুণ্ঠন |
| উদ্ধারকৃত আলামত | রক্তমাখা ছুরি ও লুণ্ঠিত অলঙ্কার |
অনিতা ঘোষ শুধুমাত্র একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন গুণী শিল্পী। এক সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম আকাশবাণী ও দূরদর্শনের নিয়মিত তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী ছিলেন। তার কণ্ঠের মাধুর্য বহু শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছে। জীবনের শেষ ভাগে এসে তিনি অসুস্থ স্বামীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তার একমাত্র পুত্র সপরিবারে বেহালার অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।
পুলিশ বর্তমানে সঞ্জু সরকারকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্নির্মাণ করছে এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। একজন প্রতিভাময়ী শিল্পীর এমন মর্মান্তিক প্রয়াণে সংগীত মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।