খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে নিজেদের আধুনিক অস্ত্র ভাণ্ডার বিশ্বনেতাদের সামনে প্রদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনসহ অন্তত দুই ডজন রাষ্ট্রপ্রধান।
কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে ছিল একাধিক নতুন পারমাণবিক আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম), সহজে পরিবহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, হাইপারসনিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র, নতুন প্রজন্মের লেজার অস্ত্র এবং রোবটিক ‘নেকড়ে ড্রোন’।
তবে সবকিছুর ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ডিএফ-৫সি, ডিএফ-২৬ডি এবং ডিএফ-৬১ আইসিবিএম—যা চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডারের সর্বশেষ সংযোজন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামের গবেষক আলেকজান্ডার নিল বলেন, ‘চীন তার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট বাহিনীকে কৌশলগত প্রতিরোধের মূল অংশ হিসেবে গড়ে তুলছে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আধিপত্যের পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করা।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক নৌবাহিনী হলো যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের হাতে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ও ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। কিন্তু চীন সে দিক থেকে এখনও পিছিয়ে। তাই মার্কিন আধিপত্য মোকাবিলায় তারা উন্মোচন করেছে ডিএফ–৬১, যা ‘গুয়াম কিলার’ নামে পরিচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌ-ঘাঁটি গুয়ামে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম।
এই অস্ত্র উন্মোচনের পর পশ্চিমা প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এখনো কি বিমানবাহী রণতরী ও স্ট্রাইক গ্রুপগুলো কার্যকর থাকবে? বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে মার্কিন জাহাজগুলো এখন অনেকটা “সিটিং ডাকস”, অর্থাৎ সহজ শিকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজিং একদিকে যেমন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ তৈরি করতে চাইছে, অন্যদিকে দ্বিতীয় দফা পাল্টা হামলার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে চাচ্ছে। সামরিক পরিভাষায় দ্বিতীয় দফা হামলা বা সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি মানে হলো—প্রথম আঘাতের পরেও শত্রুর বিরুদ্ধে পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালানোর ক্ষমতা।
এছাড়া কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করা হয় হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল ওয়াইজে-১৭ এবং হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ওয়াইজে-১৯।
চীন এদিন উন্মোচন করে পানির নিচে থেকে আঘাত হানতে সক্ষম বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় ড্রোন এজেএক্স০০২, যা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রম ও মাইন শনাক্তকরণে সক্ষম ‘রোবট নেকড়ে ড্রোন’ও কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয়।
খবরওয়ালা/শরিফ