খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মুন্নি খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধূকে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুরুজ আলী (২৮) ও তার বাবা-মা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার চক নারায়ণপুর গ্রামের মাসুদ রানার মেয়ে মুন্নি খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের শহিদুল মাঝির ছেলে সুরুজ আলীর প্রায় ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সুরুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে তিনি প্রায়ই স্ত্রী মুন্নির ওপর নির্যাতন চালাতেন এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। শুক্রবার গভীর রাতে একই কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সুরুজ আলী ধান সেচের জন্য ঘরে রাখা ডিজেল এনে মুন্নির শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
আগুনে দগ্ধ হয়ে মুন্নি চিৎকার করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা দৌড়ে এসে আগুন নেভান এবং তাকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অখিল পাল তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে তার বাবা মাসুদ রানা ঢাকার কর্মস্থল থেকে হাসপাতালে পৌঁছান।
বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন্নির মৃত্যু হয়। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর বিশ্বাস জানান, শনিবার সকালে মুন্নিকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার অনুমতি চাওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তার অবস্থার অবনতি হলে আবার হাসপাতালে আনা হয় এবং বিকেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
বাঘা থানার ওসি আ. ফ. ম. আসাদুজ্জামান বলেন, গৃহবধূর পিতা শনিবার রাতে মৌখিকভাবে ঘটনাটি জানিয়েছেন। সকালে জানাজা শেষে তিনি মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/টিএসএন