খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গোপালগঞ্জের শহরে এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরের দিকে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হঠাৎ করে মিছিল নিয়ে এসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তারা মঞ্চের সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করে এবং এনসিপির উপস্থিত নেতাকর্মীদের মারধর করে। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইট-পাটকেল ছুঁড়ে।
এরপর, পদযাত্রা সমাবেশ শেষ হওয়ার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় দফায় পদযাত্রা শুরু করলে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং দেশীয় অস্ত্রসহ আক্রমণ করা হয়।
এসময়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ছুড়তে শুরু করে। এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে, এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় দেয়। তবে, এই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেও সেনাবাহিনীর রায়টকার ও গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এদিকে, ছাত্রলীগের হামলা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও হামলার মধ্যে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪ প্লাটুন বিজিবি গোপালগঞ্জে যোগ দিয়েছে। তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা করছে।
এরপর জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে। এই ঘোষণার ফলে শহরে কোন ধরনের মিছিল বা জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ, ও সেনাবাহিনীর যৌথ পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহরে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
খবরওয়ালা/আরডি