খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসূচিকে ঘিরে সমাবেশ শুরুর আগেই সহিংসতা, গুলি, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষে প্রাণ হারান চারজন, আহত হন অনেকে।
বুধবার রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢামেকে ভর্তি হন গোপালগঞ্জের সুমন বিশ্বাস (২৫), রমজান মুন্সী (২৮) ও আব্বাস আলী সরকার (৩০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।
আহত সুমনের মা নিপা বিশ্বাস জানান, ছেলে পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। মাল সরবরাহের গাড়িতে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শিশু বন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন সুমন। গুলি লাগে ডান কোমরের উপরে ও ডান হাতের আঙুলে।
অটোরিকশাচালক রমজান মুন্সী গুলিবিদ্ধ হন সদরের লঞ্চঘাট এলাকায়। তার ভাই ইমরান মুন্সী জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে রিকশা চালাতে গিয়ে গুলিতে আহত হন রমজান। গুলি লাগে ডান কব্জির ওপর ও বগলে।
একই এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকায় আনা হয় আরেক অটোরিকশাচালক আব্বাস আলী সরকারকে। তার স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, বিকাল ৪টার দিকে রিকশা চালানোর সময় তার বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপর গুলি লাগে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে মঙ্গলবার থেকে। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে শহরের পৌর পার্ক মাঠে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই শহরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি ও অগ্নিসংযোগে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, বিকেলে ১৪৪ ধারা এবং সন্ধ্যার পর জারি করা হয় কারফিউ।
সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয় এবং তাদের লাশ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এনসিপি অভিযোগ করেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মুজিববাদীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ এবং জুলাই পদযাত্রার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
খবরওয়ালা/টিএস