খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্যাস সংকট নতুন নয়—কিন্তু চলমান সংকট তিন মাস ধরে বাড়তে বাড়তে সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অবশেষে সোমবার বেলা দুইটার দিকে শনির আখড়ার বাসিন্দারা আর নীরব থাকতে পারেননি। কয়েক শতাধিক গ্রাহক ব্যানার, ফেস্টুন ও শ্লোগান নিয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন।
তাদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ—“গ্যাস চাই”, “বিল দিই, গ্যাস পাই না”, “সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলবে না”—এই শ্লোগান মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের ফলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই যানচলাচল থেমে যায় এবং বিশাল এ মহাসড়কটি রূপ নেয় গণজটের এক নিদারুণ চিত্রে।
অবরোধের তিন ঘণ্টায় কাঁচপুর–মদনপুর থেকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, গুলিস্তান হয়ে ঢাকা মেডিকেল পর্যন্ত পুরো সড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেক যাত্রী বাসে বসে থেকেও জানতেন না কখন এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সবচেয়ে বিপদে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা, ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবীরা, যাদের সময়মতো স্কুল–কলেজ বা কর্মস্থলে পৌঁছানো ছিল অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এ সময় একাধিক অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তোলে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে চলা রোগীরা এবং তাদের স্বজনেরা চরম মানসিক চাপে পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, দক্ষিণ সিটির ৫৮ থেকে ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের বহু এলাকায় মাসের পর মাস গ্যাস নেই। প্রায় তিন লাখ মানুষ প্রতিদিন সকালে চুলা জ্বালাতে না পেরে দিশেহারা। শুকনো খাবার, ডালপুরি, হোটেলের খাবার—সবই এখন অতিরিক্ত খরচ ও কষ্টের কারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অজস্র বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে কোনো পরিকল্পনা ছাড়া, যার কারণে গ্যাসের চাপ অর্ধেকেরও কমে এসেছে।
তাদের মতে, গ্যাস লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, লিকেজ বন্ধ করা—এসব কাজকে তিতাস কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে গুরুত্ব দেয়নি। ফলে ক্ষোভ আরও বহুগুণে জমেছে।
ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. আবদুল্লাহেল বাকী জানান, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগমুহূর্তে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে এবং তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস আদায় করে। পরে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ালে যানচলাচল পুনরায় শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক জ্বালানি সংকট—বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল—সবকিছুর চাপ একইসঙ্গে নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। গ্যাস না থাকায় শুধু রান্না নয়, ছোট শিল্প এবং ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, শহরে পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন ও অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করতে ব্যর্থতা এই সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে। পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ মানুষের ধৈর্য ছেড়ে প্রতিবাদের রাস্তা ধরতে হচ্ছে—যা নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় সতর্ক সংকেত।