খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
ভারতের বীমা খাতে আধা-শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে সুরক্ষা সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন অংশীদারত্বে যুক্ত হয়েছে Shriram General Insurance এবং Piramal Finance। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম বীমা সুবিধাপ্রাপ্ত ছোট শহর ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে বীমা পণ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এখন পিরামল ফাইন্যান্সের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহকভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন বীমা পণ্য বাজারজাত করবে। এর আওতায় ভারতের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত পিরামল ফাইন্যান্সের ৭০১টি শাখার মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির এই নেটওয়ার্ক ১৩ হাজারেরও বেশি পিন কোড এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা গ্রামীণ ও আধা-শহর অঞ্চলে আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে Jairam Sridharan বলেন, ভারতের বহু অঞ্চলে, বিশেষ করে ছোট শহরগুলোতে এখনও বীমা সেবার বিস্তার সীমিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাস্তবমুখী সুরক্ষা সমাধানের প্রয়োজনীয়তা এখনও অনেক বেশি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক পরিবারের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা বা আর্থিক সংকট দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে বীমা কেবল একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং মানুষের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সম্পদ ও স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি উপায় হিসেবেও কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, পিরামল ফাইন্যান্স দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আয়ের গ্রাহকদের আর্থিক সেবা প্রদান করে আসছে। সেই বিদ্যমান গ্রাহকভিত্তি ও স্থানীয় উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বীমা সেবাকে আরও সহজলভ্য করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে Aftab Alvi বলেন, এই অংশীদারত্ব আর্থিক সুরক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, গ্রাহকদের মধ্যে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা উন্নয়ন এবং অধিকতর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।
আফতাব আলভি আরও উল্লেখ করেন, শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্স দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য কৌশলগত অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পিরামল ফাইন্যান্সের মতো বৃহৎ নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন গ্রাহকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে এবং বীমা অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে পারবে।
ভারতে বীমা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই কম বীমা প্রবেশহার বা ইনস্যুরেন্স পেনিট্রেশনের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও ছোট শহরগুলোতে অনেক মানুষ এখনও বীমা সুবিধার আওতার বাইরে রয়েছেন। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার তুলনায় বীমা খাতে সচেতনতা এবং ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন অংশীদারত্ব ও বিকল্প বিতরণ নেটওয়ার্কের দিকে ঝুঁকছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় বাজারে স্থানীয় পর্যায়ের শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বীমা সেবা সম্প্রসারণ একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র আয়ের পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বীমা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রেই সহজলভ্য সেবা ও তথ্যের অভাব দেখা যায়। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে এই খাতের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে ভারতের আর্থিক খাতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরাসরি শাখাভিত্তিক গ্রাহকসেবার গুরুত্বও বহাল রয়েছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে স্থানীয় শাখা ও পরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বীমা সেবা প্রদান গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।