খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে মাঘ ১৪৩২ | ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস’-এর মঞ্চ এবার কেবল সুর আর ছন্দের মূর্ছনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা পরিণত হয়েছিল প্রতিবাদের এক জোরালো প্ল্যাটফর্মে। বিশেষ করে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী ও তারকারা। অন্যদিকে, এই সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও সঞ্চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
এবারের গ্র্যামিতে ইতিহাস গড়েছেন পুয়ের্তো রিকান র্যাপার ব্যাড বানি। তাঁর আলোচিত অ্যালবাম ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’-এর জন্য প্রথম স্প্যানিশ ভাষার শিল্পী হিসেবে তিনি ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারটি নিজের করে নিয়েছেন। তবে পুরস্কার গ্রহণের মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি রাজনৈতিকভাবে সোচ্চার ছিলেন। তিনি সরাসরি ‘আইস আউট’ (ICE Out – ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিরোধী আন্দোলন) স্লোগান তুলে ধরেন। বানি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা কোনো পশু বা এলিয়েন নই, আমরা মানুষ এবং আমেরিকান। যারা সোনালী ভবিষ্যতের আশায় দেশ ছেড়ে আসেন, তাদের এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি।” তিনি ছাড়াও আরও দুটি বিভাগে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এই শিল্পী।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে অভিবাসন বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে অনেক শিল্পী তাদের পোশাকে ‘আইস আউট’ পিন ব্যবহার করেন। জাস্টিন বিবার, হেইলি বিবার, কিংবদন্তি জনি মিচেল এবং হেলেন জে শেনের মতো তারকারা প্রকাশ্যে এই নীতির বিরোধিতা করেন। কিউবান-আমেরিকান সংগীতশিল্পী গ্লোরিয়া এস্তেফান ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা শত শত শিশুর অমানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নিচে গ্র্যামির এই আসরে প্রধান প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর এবং তাঁদের অবস্থানের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| শিল্পীর নাম | বিশেষত্ব / পুরস্কার | প্রতিবাদের মূল বক্তব্য |
| ব্যাড বানি | অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার | অভিবাসীদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার দাবি। |
| গ্লোরিয়া এস্তেফান | কিংবদন্তি গায়িকা | ডিটেনশন সেন্টারে শিশুদের আটক রাখার বিষয়টিকে ‘অমানবিক’ আখ্যা। |
| অলিভিয়া ডিন | সেরা নবাগত শিল্পী | নিজেকে অভিবাসীর নাতনি পরিচয় দিয়ে ঐতিহ্যের গর্ব প্রকাশ। |
| শাবুজি | জনপ্রিয় র্যাপার | অভিবাসীরাই আমেরিকাকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য। |
| সিজা (SZA) | গ্র্যামিজয়ী শিল্পী | অভিবাসন অভিযানে রাস্তায় মানুষ হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা। |
| বিলি আইলিশ | পপ তারকা | প্রতিবাদের ভাষা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ। |
দক্ষিণ আফ্রিকান কমেডিয়ান ট্রেভর নোয়া এবার শেষবারের মতো গ্র্যামি সঞ্চালনা করেছেন। তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি নিকি মিনাজের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ ঝাড়েন। ট্রাম্প ট্রেভর নোয়াকে ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’ এবং অনুষ্ঠানটিকে ‘দেখার অযোগ্য’ ও ‘বর্জ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। এমনকি তিনি সিবিএস (CBS) চ্যানেল এবং সঞ্চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন।
গ্র্যামির এই আসর প্রমাণ করেছে যে, শিল্পীরা কেবল বিনোদন দাতা নন, বরং সমাজের গভীর সংকটে তাঁরা সোচ্চার প্রতিনিধি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও অলিভিয়া ডিন বা শাবুজির মতো তরুণ তুর্কিরা প্রমাণ করেছেন যে, অভিবাসীদের হাত ধরেই আমেরিকার বর্তমান রূপ দাঁড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই গ্র্যামি সংগীত ইতিহাসের পাতায় এক ভিন্ন কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।