অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে কার্তিক ১৪৩২ | ২২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের মারগন শহরে। ১১ বছর বয়সী ট্রিস্টিয়ান জেমস ফ্রাহাম সাপের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার মূল কারণ হিসেবে তার বাবা তাকে চিকিৎসা না দিয়ে ‘একটু ঘুমিয়ে নাও’ বলেছিলেন।
মঙ্গলবার এনডিটিভি জানিয়েছে, যদিও এই ঘটনা কয়েক দিন আগে ঘটেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন ট্রিস্টিয়ানের মৃত্যুর পেছনে ভয়াবহ অবহেলার দিকটি সামনে এনেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রিস্টিয়ান একটি রাইডিং মাওয়ার চালানোর সময় পড়ে যান এবং তখনই তাকে একটি ব্রাউন স্নেক কামড় দেয়। এটি বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক বিষধর সাপ। সাপের কামড়ের পর ট্রিস্টিয়ানের বাবা কেরড ফ্রাহাম এবং আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কামড়ের দাগ খুঁজলেও কিছু স্পষ্ট লক্ষণ না পেয়ে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেন। কেরড মনে করেছিলেন, হয়তো ট্রিস্টিয়ান মদ্যপ হয়েছিল, তাই অসুস্থ দেখাচ্ছে। পরে তিনি ছেলেকে বলেন, ‘ঘুমিয়ে নাও, সকালে ভালো লাগবে।’
কিন্তু পরদিন সকালে ট্রিস্টিয়ানকে বাড়ির বাইরে একটি স্লিপিং ব্যাগের নিচে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, তার ডান গোড়ালিতে দুটি চিহ্ন ছিল, যা সাপের কামড়ের সঙ্গে মিলে যায়। ময়নাতদন্তে জানা গেছে, ব্রাউন স্নেকের বিষে তার দেহে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে।
করনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যদি ট্রিস্টিয়ান সময়মতো চিকিৎসা পেত, তবে তার মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো।’
এই ঘটনা সাপের কামড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
এদিকে, কেরড ফ্রাহামের বিরুদ্ধে প্রথমে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হলেও, গত বছর সেই মামলা রহস্যজনকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।