খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২২ পিএম
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামশুজ্জামান জানান, কক্সবাজারমুখী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ঈদগাঁও থেকে চকরিয়াগামী একটি লেগুনার সংঘর্ষ হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে লেগুনাটিকে ‘ছাড়পোকা’ নামেও ডাকা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী সদর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাস খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নম্বরবিহীন লেগুনাটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে লেগুনার চালকসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহত চারজন হলেন ঈদগাঁও উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮), আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫), চকরিয়ার খুটাখালী সেগুনবাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫) এবং ফুলছড়ি শিয়াপাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭)।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে জসিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহেদ, রফিক ও জিয়াবুল। ফলে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারজনে।
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ঈদগাঁওয়ের নতুন অফিস এলাকার জিয়াবুল হক (৪০), নাপিতখালীর সরোয়ার (১৯), সৈয়দ আলম (৫০) এবং খুটাখালীর দেলোয়ার হোসেন (৩৫) মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে টেকনাফের সৈয়দ করিম (৩০) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুর্ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনের চিকিৎসার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
চকরিয়া-কক্সবাজার মহাসড়কটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এ পথে চলাচল করে। মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস ও স্থানীয় পর্যায়ের ছোট যানবাহনের চলাচলের কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে অনিবন্ধিত বা নম্বরবিহীন যানবাহন চলাচল, অতিরিক্ত গতি এবং বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাস ও লেগুনা জব্দ করেছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের এসআই শামশুজ্জামান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
মন্তব্য