খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে পৌষ ১৪৩২ | ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামে ইয়াবা সংক্রান্ত একটি ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে স্বচ্ছতা ভঙ্গের অভিযোগে আট পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তারা ইয়াবা উদ্ধার করার পর আসামিকে ছেড়ে দেওয়া এবং উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদ, যিনি ২৩ ডিসেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ)কে ৫ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেন।
| ক্রমিক | পদবি | নাম | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|---|
| ১ | উপপরিদর্শক (এসআই) | মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার | বাকলিয়া থানা |
| ২ | এসআই | মোহাম্মদ আমির হোসেন | কোতোয়ালি থানা |
| ৩ | সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) | সাইফুল আলম | – |
| ৪ | এএসআই | মো. জিয়াউর রহমান | – |
| ৫ | এএসআই | মো. সাদ্দাম হোসেন | – |
| ৬ | এএসআই | এনামুল হক | – |
| ৭ | কনস্টেবল | মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা | – |
| ৮ | নারী কনস্টেবল | উম্মে হাবিবা | – |
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরের নতুনব্রিজ এলাকায় একটি তল্লাশিচৌকিতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী “দেশ ট্রাভেলস” বাসে তল্লাশি চালানো হয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগ থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তারা আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মাদক আত্মসাৎ করেন এবং রাতের আনুমানিক সাড়ে তিনটায় কনস্টেবল ইমতিয়াজকে ছেড়ে দেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে ইয়াবা আত্মসাৎ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পুলিশের বরখাস্তকৃতরা পিআরবি বিধি-৮৮০ অনুযায়ী সাময়িক শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
পরবর্তী তদন্তে প্রকাশিত হয়েছে, কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবা বহনের জন্য সম্মত হয়েছিলেন। কোনও ছুটি না নিয়ে তিনি ইয়াবা ভর্তি লাগেজ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। নতুনব্রিজে তল্লাশি করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ঘটনা প্রকাশিত হলে নগর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে আট পুলিশ কর্মকর্তার দোষপ্রমাণ পাওয়া গেছে এবং কমিশনারের নির্দেশে সোমবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।