খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রামের চকবাজার থানা এলাকায় সোমবার (২১ জুলাই) মধ্যরাতে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এতে ছাত্র শিবির নেতা জাবের গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অতিরিক্ত মোতায়েন করতে হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে সরকারি মহসিন কলেজ এলাকায় সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশার অনুসারীরা স্থানীয় ভ্যান শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছিল। এসময় ইসলামি ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা ওই চাঁদাবাজদের হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনার প্রতিশোধ হিসাবে বাদশার অনুসারীরা সোমবার রাতে আরিফুল ইসলামকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থানায় সোপর্দ করে। এরপর মহসিন কলেজের অন্যান্য শিবির কর্মীরা তাকে মুক্ত করার জন্য থানায় গেলে, সেখানে ওৎ পেতে থাকা বাদশাহপন্থী সন্ত্রাসীরা পুলিশ চোখের সামনেই শিবির কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে এমদাদুল হক বাদশাকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল বলেন, “আমাদের কর্মী আরিফুল ইসলামকে মারধর করে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়েছে। এরপরও পুলিশ সামনে থেকে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা এই অন্যায় ও সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি করছি।”
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের নেতা শেখ রাসেল দাবি করেন, “একজন ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশে দেওয়া নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শিবির দাবি করছে ওই ব্যক্তি তাদের কর্মী, কিন্তু আমরা তাদেরকে তার ছাত্রলীগ সদস্য হওয়ার যথাযথ তথ্য দিয়েছি।”
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল কবির বলেন, “একজনকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কাজ করছে। এখন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
খবরওয়ালা/আশ