খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার এবং প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে ছয় দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তাঁরা বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে উপাচার্য ও প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। বিক্ষোভ চলাকালে ‘আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে’, ‘উপাচার্য হায় হায়, নিরাপত্তার খবর নাই’ এবং ‘দফা এক, দাবি এক প্রশাসনের পদত্যাগ’—এসব স্লোগান দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, প্রশাসন ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা যখন হামলার শিকার হচ্ছিল, তখন প্রশাসন নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছিল। এই প্রশাসনের পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
অন্যদিকে বেলা ১১টায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ঝুপড়িতে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলন থেকে ছাত্রজোটের নেতারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় উপাচার্যকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
জোটের অন্য দাবিগুলো হলো: আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে সম্পূর্ণ ব্যয়ভার প্রশাসনের নেওয়া, হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে ইলেকট্রনিক কার বাড়ানো ও চক্রাকার বাস চালু করা, শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসনের রোডম্যাপ দেওয়া ও ভাতা চালু করা, এবং ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় জোরালো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ধ্রুব বড়ুয়া। তিনি বলেন, উপাচার্য এবং একজন সহকারী প্রক্টর সংঘর্ষের সব দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ছাড়া কোনো উপায় নেই, কারণ শিক্ষার্থীরাই এখন তাদের কাছে অনিরাপদ।
গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক ছাত্রীকে মারধরের জেরে জোবরা গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
খবরওয়ালা/টিএসএন