মুন্সিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের নাম মো. আরিফ বেপারী (৩২)। রোববার সকাল আটটার দিকে পৌরসভার জসিমনগর এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত আরিফ মুন্সিরহাট বাজারে কসাইয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি পাঁচঘরিয়া এলাকার প্রয়াত মতিন বেপারীর ছেলে এবং জসিমনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবারের দাবি, আরিফের ছোট ভাই আকাশ বেপারীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার কসাই নূর মোহাম্মদের মধ্যে মাংস কেনাবেচা সংক্রান্ত লেনদেন থেকে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এ বিষয়ে প্রায় ছয় মাস আগে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল বলে স্বজনরা জানান।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে আকাশ নূর মোহাম্মদকে রাস্তা থেকে ধরে মুন্সিরহাট বাজারে নিয়ে যান এবং পরে কসাই সমিতির কাছে বিষয়টি জানিয়ে তাঁকে তাদের জিম্মায় রাখা হয়। এ ঘটনার পরপরই যোগিনীঘাট এলাকার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা বাজারে এসে নূর মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বাকবিতণ্ডা মারামারিতে রূপ নেয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ওই ঘটনার সময় এনায়েত হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা আরিফ ও তাঁর ভাই আকাশকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পরে রোববার ভোরে জসিমনগর এলাকার একটি জমির পাশে স্থানীয় কয়েকজন নারী রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।
পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নিহতের পরিবার দাবি করেছে, পূর্বশত্রুতা ও পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে আরিফকে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত এনায়েত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দৈনিক প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ববিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
বিষয়
তথ্য
নিহত
মো. আরিফ বেপারী (৩২)
স্থান
জসিমনগর, মুন্সিগঞ্জ পৌর এলাকা
সময়
রোববার সকাল
অভিযোগ
পাওনা টাকা ও পূর্ববিরোধ
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
নূর মোহাম্মদ, এনায়েত হোসেন (অভিযুক্ত)
তদন্ত অবস্থা
চলমান, গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন বলছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।