খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের রেলওয়ে সেক্টরে নিরাপত্তার এক অদ্ভুত ও উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় অভিমুখী আন্তঃনগর ট্রেনের ছাদ থেকে চলন্ত অবস্থায় এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘কনডেন্সার কয়েল’ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই দুঃসাহসিক চুরির ফলে ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে, যার ফলে নির্দিষ্ট একটি কোচ রেখেই ট্রেনটিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করতে হয়েছে।
বুধবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। স্টেশনে পৌঁছানোর পর কারিগরি ও বৈদ্যুতিক বিভাগের নিয়মিত পরীক্ষায় দেখা যায়, একটি এসি কোচের ছাদের ওপর থাকা কনডেন্সার কয়েলগুলো উধাও। ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকা থেকে পঞ্চগড় আসার পথে কোনো এক নিরিবিলি এলাকায় ট্রেন যখন ধীরগতিতে চলছিল বা কোনো স্টেশনে থেমেছিল, তখন সংঘবদ্ধ চোরচক্র ট্রেনের ছাদে উঠে এই দামী যন্ত্রাংশগুলো খুলে নিয়ে যায়।
এসি বিকল হয়ে যাওয়ায় কোচটি যাত্রীদের জন্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি তার নিয়মিত ১৩টি কোচের পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেরামত না হওয়া পর্যন্ত আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ঘাটতি বজায় থাকতে পারে।
চুরির শিকার হওয়া কোচটিতে মোট ৭৮টি আসন ছিল। যদিও পঞ্চগড় থেকে এই কোচের কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না, তবে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর স্টেশনের যাত্রীদের জন্য আসন সংরক্ষিত ছিল। আকস্মিক এই চুরির ঘটনায় ওই দুই জেলার যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বুধবার রাতেই অনেক যাত্রীকে বিষয়টি অবহিত করে এবং যারা স্টেশনে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
ট্রেন চলাচল ও কোচ সংক্রান্ত তথ্যের সংক্ষিপ্ত সারণী:
| বিষয় | বিবরণ |
| আক্রান্ত ট্রেন | দ্রুতযান এক্সপ্রেস (আসার সময়) ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (যাওয়ার সময়) |
| চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ | এসির কনডেন্সার কয়েল (তামার তৈরি দামী অংশ) |
| কোচ সংখ্যা হ্রাস | ১৩টির পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে চলাচল করছে |
| প্রভাবিত আসন সংখ্যা | ৭৮টি (এসি স্নিগ্ধা শ্রেণি) |
| সেবা ব্যাহত হওয়ার মেয়াদ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত (সম্ভাব্য) |
| যাত্রী ক্ষতিপূরণ | টিকিটের টাকা ফেরত প্রদান করা হয়েছে |
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের বৈদ্যুতিক বিভাগের কর্মীরা জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার চলন্ত ট্রেনে এ ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে নির্জন এলাকায় ট্রেনের ছাদে উঠে দামী তামার কয়েল বা যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া চোরচক্রের জন্য সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেশনের মাস্টার জাহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, চুরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা কেবল রেলওয়ের আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবার মান নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। চলন্ত ট্রেনে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) টহল থাকা সত্ত্বেও ছাদের ওপর থেকে কীভাবে ভারি যন্ত্রাংশ চুরি হয়, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা।