খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিজের আপন চাচাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। তবে আদালতের আদেশের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ওই কর্মকর্তা বিচারককে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত দাম্ভিক ও শ্লেষাত্মক উক্তি করেন। তিনি বিচারককে বলেন, ‘আমি কিন্তু একজন আমলা, আপনি সুবিচার করেননি।’ জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার এমন আচরণে আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দুদকের প্রসিকিউটর ও আইনজীবীদের তথ্যমতে, ৩৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর জালিয়াতির মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার বাদী হলেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কামাল হোসেন নিজের প্রকৃত বাবা-মার পরিচয় গোপন করে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা চাচার সন্তান সেজে রাষ্ট্রের সাথে চরম প্রতারণা করেছেন।
নিচে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও মামলার বর্তমান অবস্থার সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আসামির নাম ও পদবী | মো. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (ওএসডি)। |
| মূল অভিযোগ | জন্মদাতা বাবার পরিবর্তে চাচাকে বাবা সাজিয়ে কোটা সুবিধা গ্রহণ। |
| গৃহীত সুবিধা | মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ৩৫তম বিসিএসে চাকরি লাভ। |
| আইনি ধারা | দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭, ৪৬৮ এবং ৪৭১ (জালিয়াতি)। |
| বর্তমান অবস্থা | আদালত কর্তৃক জামিন বাতিল এবং জেলহাজতে প্রেরণ। |
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেছেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি সুকৌশলে তাঁর আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে মা-বাবা হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই ভুয়া পরিচয়েই তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সনদ লাভ করেন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন কামাল হোসেন। পরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ডিএনএ পরীক্ষায় সহযোগিতার শর্তে সাময়িক জামিন দেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি দুবার জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় এবং তদন্তে অসহযোগিতা করায় দুদক তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন জানায়। আজ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ডিএনএ প্রতিবেদনের সাপেক্ষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আদালতের আদেশের পর যখন পুলিশ তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছিল, তখন তাঁর ‘আমি আমলা’ উক্তিটি পেশাদারিত্বের চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরা। বিচারব্যবস্থার প্রতি এমন অশ্রদ্ধাশীল আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম। বর্তমানে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।