খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার, সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশের রাজনীতি ও জনগণের নজর এখন এই ভোটের উপর। দেশের ক্ষমতার হস্তান্তর, নতুন সরকারের গঠন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোন নেতা আসছেন—এই তিনটি প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দুইটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর মায়ের মৃত্যুর শোক সামলে, তারেক রহমান ভোট প্রচারণার মাঠে নেমে পুরো দেশ ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন। জনগণকে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দলের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে তিনি ভোটারদের হৃদয় জয় করেছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা আত্মপ্রত্যয়ী, তারা ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোট বিপ্লবের প্রত্যাশা রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান নির্বাচনী বাস্তবতায়, শেখ হাসিনা সরকারের পরবর্তী রাজনৈতিক ফাঁক তৈরি হয়েছে, যেখানে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল যদি অনুকূলে আসে, তবে দেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তিনি।
তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় রাষ্ট্র পুনর্গঠন, অর্থনীতি স্থিতিশীলকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো ইস্যু সামনে এনেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, স্বাবলম্বী দেশ গঠনে দল নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচিত হলে তারেক রহমানকে রাজনৈতিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, “সব রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ভোট শেষ করে।”
বিএনপি নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, ভোটের মাঠের বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশা বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। বিএনপির সমর্থন সব ধর্ম, জাতি ও অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিস্তৃত।”
গতকাল বনানীতে হাস্যোজ্জ্বল তারেক রহমান ‘ফ্রি এনিম্যাল ক্লিনিক’ উদ্বোধন করেন। তুরস্কের সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দলের সিনিয়র নেতা রুহুল কবীর রিজভীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া—এই সব কার্যক্রম তার জনসংযোগের অংশ।
তারেক রহমান আগামী ভোটে গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করবেন। একই কেন্দ্রে ভোট দেবেন তারেকের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
নিচের টেবিলে তারেক রহমানের নির্বাচনী তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তথ্যসূচক | বিবরণ |
|---|---|
| আসন | ঢাকা-১৭, বগুড়া-৬ |
| নির্বাচনী তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| দেশে ফেরার তারিখ | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| ভোটার সংযোগ | দেশব্যাপী প্রচারণা, জনসভা, সভা ও হোল্ডার মিটিং |
| সামাজিক কার্যক্রম | ‘ফ্রি এনিম্যাল ক্লিনিক’, হাসপাতালে নেতা দর্শন, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ |
| নির্বাচনী লক্ষ্য | শান্তিপূর্ণ ভোট, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন, জনগণের সরকার গঠন |
বাংলাদেশের নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ এবং জনগণের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের মিলেই বিএনপির আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রতিফলিত হচ্ছে।