সাভারে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকাগামী লেনের বিশমাইল সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মুহূর্তের মধ্যে মহাসড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মাইক্রোবাসটি স্বাভাবিক গতিতে চলার সময় হঠাৎ ইঞ্জিন অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চালক বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত যানটি মহাসড়কের একপাশে নিরাপদ স্থানে থামান এবং যাত্রীদের দ্রুত নামতে সহায়তা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের শিখা পুরো ইঞ্জিন ও সামনের অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ মাইক্রোবাসটি আগুনে পুড়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে অগ্নি নির্বাপণ সেবা বিভাগের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল ধীরগতিতে থাকলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সৌভাগ্যবশত এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
সাভার মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাওগাতুল আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও অগ্নি নির্বাপণ সেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটি পরবর্তীতে হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—
বিষয়
তথ্য
স্থান
ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক, বিশমাইল সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকা
সময়
মঙ্গলবার, বেলা সাড়ে ১২টা
যানবাহন
চলন্ত যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস
অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ
ইঞ্জিন ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট (প্রাথমিক ধারণা)
ক্ষয়ক্ষতি
মাইক্রোবাস সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়
হতাহত
কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা
অগ্নি নির্বাপণ সেবা ও স্থানীয় পুলিশ
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় সাময়িক উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।