মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিলটিতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মরদেহটি দেখতে পান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরমুকুন্দি এলাকার ওই বিলে জমি আবাদের প্রস্তুতি হিসেবে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে যান কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এ সময় কচুরিপানার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। প্রথমে তাঁরা দুর্গন্ধের উৎস বুঝতে পারেননি। পরে খোঁজ করতে গিয়ে কচুরিপানার মধ্যে কম্বলে মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান। কাছে গিয়ে সেটি মরদেহ বলে বুঝতে পেরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে কচুরিপানার স্তূপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
ওসি হাফিজুর রহমান জানান, মরদেহটি একজন অজ্ঞাতপরিচয় নারীর। তাঁর পরনে সালোয়ার-কামিজ ছিল। বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর হতে পারে। দীর্ঘ সময় পানিতে পড়ে থাকা বা পচন ধরার কারণে মরদেহটি বিকৃত হয়ে গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে অথবা তারও আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের ধারণা, ওই নারীকে হত্যার পর মরদেহ ধনাগোদা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। পরে নদী থেকে খালের পানিতে ভেসে মরদেহটি চরমুকুন্দি বিলের কচুরিপানার স্তূপে আটকে যায়। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং কোথায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি আরও জানান, মরদেহের অবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি। এ কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় আপাতত থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলা করা হতে পারে।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং অন্যান্য তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, বিলের কচুরিপানার মধ্যে এভাবে মরদেহ পড়ে থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত নারীর পরিচয়, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


