খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
বাংলাদেশি সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পী নাফীজ আল আমিন ‘বেশি জোস’ নামের একটি নতুন বর্ধিত ক্রীড়ন বা চার গানের সংক্ষিপ্ত সঙ্গীত সংকলন শ্রোতাদের উপহার দিতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চিত গান রচনার অভিজ্ঞতা এবং দেশ-বিদেশের একঝাঁক প্রথিতযশা সঙ্গীতশিল্পীর যৌথ মেলবন্ধনে এই নতুন প্রকল্পটি তৈরি হয়েছে। এই সংকলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এর সম্পূর্ণ ধারণ ও সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে শিল্পীর নিজস্ব ঘরোয়া রেকর্ডিং কক্ষে। কোনো বাণিজ্যিক স্টুডিওর সাহায্য ছাড়াই গানে ব্যবহৃত শাব্দিক ড্রামস বা অ্যাকোস্টিক ড্রামসসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্রের সুর এই গৃহ-স্টুডিওতেই ধারণ করা হয়েছে। শিল্পী নাফীজ জানান, এই প্রকল্পটির পেছনে টানা তিন মাসের অক্লান্ত ও নিবিড় পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে, যদিও এর কিছু সুরের সৃষ্টি হয়েছিল ২০০৪ সালের দিকে।
এই বিশেষ সঙ্গীত সংকলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ডের সদস্যদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের গুণী যন্ত্রশিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞরা যুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত দল ‘ওয়ারফেজ’ এবং ‘পাওয়ারসার্জ’-এর সমীর হাফিজ, ‘ওনড’ দলের প্রীতম, ‘কনক্লুশন’ ব্যান্ডের মাহেয়ান এবং বিশিষ্ট সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব আসিফ রানান এই প্রকল্পে নিজস্ব ঘরানার সুর যুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার সঙ্গীতশিল্পী মার্কো এবং আমেরিকার বিখ্যাত ডেথ মেটাল ঘরানার দল ‘অবিচুয়ারি’-এর কেন অ্যান্ড্রিউজ এই সংকলনের বাদ্যযন্ত্র ও সুরের কাজে অংশ নিয়েছেন।
নতুন এই প্রকল্পের সঙ্গীত ও সহযোগী শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| সংকলনের নাম | গানের সংখ্যা | রেকর্ডিংয়ের মাধ্যম | দেশীয় সহযোগী শিল্পী | আন্তর্জাতিক সহযোগী শিল্পী |
| বেশি জোস | ৪টি | সম্পূর্ণ নিজস্ব গৃহ-স্টুডিও | সমীর হাফিজ, প্রীতম, মাহেয়ান ও আসিফ রানান | মার্কো (আর্জেন্টিনা) এবং কেন অ্যান্ড্রিউজ (আমেরিকা) |
এই সংকলনের গানগুলোর বাণীর ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে। সংকলনে থাকা মোট চারটি গানের মধ্যে তিনটির কথা ও লিরিক রচনা করেছেন নাফীজ আল আমিন নিজে। তবে ‘সময়কে ছাড়িয়ে’ শিরোনামের একটি ভিন্নধর্মী গানের কথা লিখেছেন আশফাক পল্লব। এই প্রকল্পের সঙ্গীতশৈলী নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে নাফীজ জানান, এই সংকলনটি নির্দিষ্ট কোনো একক ধারার সঙ্গীতকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়নি। শ্রোতারা এতে বিভিন্ন শৈলী ও ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার সঙ্গীতের একটি চমৎকার মিশ্রণ উপভোগ করতে পারবেন।
নিজের সঙ্গীত ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করে এই শিল্পী জানান, বিগত তিন মাস রক্ত, ঘাম ও অশ্রু বিসর্জন দিয়ে তাকে এই কাজটির পেছনে শ্রম দিতে হয়েছে, যার কিছু সুর ২০০৪ সাল থেকে তার কাছে সংরক্ষিত ছিল। আগামী মাসগুলোতে তিনি আরও নতুন গান এককভাবে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ দীর্ঘ অ্যালবামে রূপ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এছাড়াও এই নতুন গানগুলোর প্রচারণার উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন দেশ ও রাজ্যে সরাসরি মঞ্চ পারফরম্যান্স বা লাইভ কনসার্টে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিভিন্ন বহুসাংস্কৃতিক উৎসব এবং বড় বড় সঙ্গীতানুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে এই গানগুলো পরিবেশন করাই এখন তার মূল লক্ষ্য।