রবিবার রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সালমান। মাত্র ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার ও একটি ছক্কা। এই ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত সময়ে পাকিস্তান ৩০৫ রানের সংগ্রহ গড়ে। পরে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে স্বাগতিক দল।
সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে ব্যাট উঁচিয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে উদ্যাপন করেন সালমান। তাঁর সেই মুহূর্ত দ্রুতই আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক সময়ে অধিনায়কত্ব হারানো এবং দল থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই উদ্যাপনটিকে তাঁর ব্যক্তিগত জবাব হিসেবে দেখছিলেন। তবে ম্যাচ শেষে সেই ধারণা পরিষ্কারভাবে নাকচ করে দেন তিনি।
সালমান বলেন, কারও উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার কিংবা কাউকে ভুল প্রমাণ করার মতো সময় তাঁর নেই। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা, ব্যাটিংয়ের আনন্দ এবং পাকিস্তানের হয়ে খেলার সুযোগ উপভোগ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্যাপনের পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, টেলিভিশনে খেলা দেখার সময় তাঁর ছোট্ট ছেলে আনন্দ প্রকাশ করতে ঠিক একই ধরনের অঙ্গভঙ্গি করে। ছেলের সেই পরিচিত ভঙ্গি তাঁর মনে গেঁথে ছিল। তাই সেঞ্চুরি করার পর ছেলের মতো করেই আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি। মাঠের উত্তেজনা আর ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ মিলে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে বিশেষ।
সালমানের এই সেঞ্চুরিকে শুধু একটি ম্যাচজয়ী ইনিংস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক কঠিন সময় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের ক্ষেত্রেও এটি তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর আগে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ড সফরের সময় টেস্ট দল থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল এই অলরাউন্ডারকে। স্বাভাবিকভাবেই এসব ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছিল।
তবে জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময় নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ কাজে লাগান সালমান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে অপরাজিত ৩০০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। সেই পারফরম্যান্স নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবারের সেঞ্চুরিটি ওয়ানডে ক্রিকেটে সালমানের চতুর্থ শতক। মাত্র ৮২ বলে শতরান পূর্ণ করে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েন তিনি। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রকাশ দেখা যায়। দলের বড় সংগ্রহ গড়ে তোলার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের হাতে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
এই প্রত্যাবর্তনের অভিজ্ঞতা থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেছেন সালমান। তাঁর মতে, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ভালো করা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় রান করা কিংবা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা মোটেও সহজ কাজ নয়।
সালমানের বক্তব্য, ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় যারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেন, তাঁদের পারফরম্যান্সকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তিনি মনে করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার সময় এসেছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে সাফল্য, দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির অর্জন এবং ছেলেকে ঘিরে আবেগঘন উদ্যাপন—সব মিলিয়ে দিনটি সালমানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল। সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ও দলীয় পরিবর্তনের পর তাঁর এই পারফরম্যান্স পাকিস্তানের ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। আর সেঞ্চুরির পরের উদ্যাপনটি মনে করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ ও প্রতিযোগিতার মধ্যেও একজন খেলোয়াড়ের আনন্দের উৎস হতে পারে পরিবারের ছোট্ট একটি মুহূর্ত।


