চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর চান মিয়া ওরফে চান্দ আলী (৫৫) নামে এক ভ্যানচালকের মাথাবিহীন ও গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কোটচাঁদপুর সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যানচালককে কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর নিখোঁজ রিকশাভ্যানটির কী হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
নিহত চান মিয়া জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বালিগর্ত পাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত জোনাব আলীর ছেলে। পেশায় ভ্যানচালক চান মিয়া জীবিকার তাগিদে রিকশাভ্যান চালাতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর চান মিয়া নিখোঁজ হন। ওই দিন থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজখবর নেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছেও তাঁর সন্ধান চাওয়া হয়। তবে কোথাও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নিখোঁজ হয় তাঁর রিকশাভ্যানটিও। এতে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
চান মিয়ার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপরও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের অদূরে কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে একটি মাথাবিহীন গলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা মরদেহটি চান মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
মরদেহের মাথা না থাকায় এবং সেটি গলিত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে চান মিয়ার নিখোঁজ রিকশাভ্যানটিরও সন্ধান মেলেনি।
প্রাথমিকভাবে ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চান মিয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এটি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ের ধারণা। হত্যার উদ্দেশ্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং নিখোঁজ ভ্যানটির অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার ধরন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি চান মিয়ার নিখোঁজ হওয়ার সময়কার পরিস্থিতি, তাঁর রিকশাভ্যানের সন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্য তদন্তে গুরুত্ব পাবে।
নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর একজন ভ্যানচালকের এমন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত এবং তাঁদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।


