খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
অর্থনীতিবিদ ও তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেছেন, সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার গোপন ও প্রকাশ্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তাঁরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও আগের সরকারের মতো একই ধরনের আচরণ করছেন এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা আ ফ ম মাহবুবুল হকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। সেটি বিদেশি কোম্পানিকে দিতে চাওয়া হচ্ছে। আগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও টেন্ডার ছাড়াই সেই একই কোম্পানিকে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। এখন সেই অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ ও জোরজবরদস্তি চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা হুমকি দিয়েছেন যে, যারা এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। আবার পরিবহন উপদেষ্টা এমনসব কথা বলছেন, যেগুলোর অর্থ দাঁড়ায়—জোর করে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।”
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, “এই সরকার অন্তর্বর্তীকালীন হলেও এখন এমন সব চুক্তি করছে, যা স্থায়ী সরকারের কাজ হওয়া উচিত নয়। যেমন—স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি, বা দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি চুক্তি। এসব করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক করপোরেট স্বার্থ রক্ষার জন্য।”
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হওয়া উচিত সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু এটি কিছু নির্দিষ্ট দলের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কারণেই এখন জটিলতা তৈরি হয়েছে।”
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ভুঁইয়া, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা।