খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে ‘ডেভিল’ বা শয়তান আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী জাফর আহমেদের নেতৃত্বে একদল যুবক এই ঘটনা ঘটান। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা জাফর আহমেদকে উপজেলা পরিষদ ভবনে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বের হওয়ার সময় জাফর আহমেদ ও তার অনুসারীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ডেভিল’ বলে সম্বোধন করেন। জাফর দাবি করেন, তার কাছে শহীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এরপর তারা চেয়ারম্যানকে ধরে নিয়ে জকিগঞ্জ থানায় সোপর্দ করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মানিকপুর ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদে জড়ো হন। তারা জাফর আহমেদকে ভুয়া সমন্বয়ক আখ্যা দিয়ে এবং জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে হেনস্তা করার অভিযোগে তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জাফরকে উদ্ধার করতে হয়।
ওসি আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, জাফর আহমেদ জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে ১০৭ জনের নাম উল্লেখ করে যে মামলা করেছিলেন, সেই তালিকায় আবদুস শহীদের নাম নেই। এমনকি তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ব্যক্তি | পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা | বর্তমান অবস্থান/বক্তব্য |
| আবদুস শহীদ | ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মানিকপুর ইউপি। | নির্দোষ দাবি, ৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ। |
| জাফর আহমেদ | সমন্বয়ক (দাবিকৃত) ও ছাত্রদল নেতা। | জুলাই আন্দোলনের মামলার বাদী। |
| আবিদুর রহমান | সভাপতি, উপজেলা যুব জামায়াত। | শহীদের পক্ষে সাফাই ও রাজনৈতিক সংশ্রবহীনতার দাবি। |
| জুবের আহমেদ | ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জেলা ছাত্রদল। | জাফরের ছাত্রদল পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। |
উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আবদুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। তাকে পরিকল্পিতভাবে অপদস্থ করা হয়েছে।” অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল নেতা জুবের আহমেদ জানান, জাফর ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হলেও বর্তমানে উপজেলায় কোনো বৈধ কমিটি নেই।
জকিগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, যেহেতু সাধারণ জনতা আবদুস শহীদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলার এজাহার না থাকায় বিষয়টি আইনি পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ঘটনার পর জকিগঞ্জ উপজেলা সদরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপরাধ জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।