খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পেস বোলিং শক্তির বিচারে বাংলাদেশ দল পাকিস্তানের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজকে কেন্দ্র করে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী পেস আক্রমণের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেই শান্ত টাইগার পেসারদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতাকে বর্তমান সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে পেস বোলিং বিভাগে। এক সময় স্পিন-নির্ভর দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও তরুণ নাহিদ রানাদের সমন্বয়ে গঠিত আক্রমণভাগ যেকোনো কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম। অধিনায়ক শান্তর মতে, পাকিস্তানের বোলারদের দক্ষতা নিয়ে কোনো সংশয় না থাকলেও গত দুই-তিন বছরে বাংলাদেশের পেসাররা যেভাবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন, তাতে তারা কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবেন।
দুই দলের পেস আক্রমণের শক্তিমত্তা ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বাংলাদেশ পেস ইউনিট | পাকিস্তান পেস ইউনিট |
| মূল শক্তি | বৈচিত্র্য এবং ধারাবাহিক লাইন-লেন্থ। | প্রচণ্ড গতি এবং রিভার্স সুইং। |
| সাম্প্রতিক ফর্ম | সব সংস্করণেই কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। | চোট ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে কিছুটা অস্থিতিশীল। |
| অভিজ্ঞতা | তাসকিনের ফেরা ও শরিফুলের অভিজ্ঞতা। | শাহীন আফ্রিদি ও নাসিম শাহর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। |
| তরুণ প্রতিভা | নাহিদ রানার মতো দ্রুতগতির বোলার। | তরুণ প্রতিভাদের পাইপলাইন সবসময় সমৃদ্ধ। |
| অধিনায়কের মত | বর্তমানে কিছুটা এগিয়ে থাকার দাবি। | ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী দল। |
দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে তাসকিন আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশ দলের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। কাঁধের চোট ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে তাসকিন গত কিছুদিন লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন। তবে তার ফিটনেস ও খেলার আগ্রহ বিবেচনায় তাকে আবারও টেস্ট স্কোয়াডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
অধিনায়ক শান্ত জানান যে, তাসকিনের মতো অভিজ্ঞ বোলার দলে থাকলে অধিনায়কের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাসকিনকে স্কোয়াডে নেওয়ার আগে দলের ফিজিও এবং ট্রেনারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে তার ফিটনেস নিয়ে দলের সবাই সন্তুষ্ট। যদিও দীর্ঘ সময় তিনি লাল বলে কোনো ম্যাচ খেলেননি, তবে নেটে তার প্রস্তুতি এবং মানসিক দৃঢ়তা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।
তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে নিয়েও অধিনায়ক যথেষ্ট আশাবাদী। রানার গতি এবং বোলিং করার ধরন তাকে অন্য বোলারদের থেকে আলাদা করে তোলে। শান্ত উল্লেখ করেন যে, তিনি ছোটবেলা থেকেই রানাকে চেনেন এবং জানেন এই তরুণ পেসার নিজের বোলিং নিয়ে কতটা সুশৃঙ্খল। একজন অধিনায়কের জন্য এমন একজন গতিশীল বোলার হাতে থাকা কৌশলগতভাবে অনেক সুবিধাজনক। নাহিদ রানা ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ধরে রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শান্ত।
নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, পেসারদের এই সুশৃঙ্খল আক্রমণ পাকিস্তানের প্রতিকূল কন্ডিশনেও ফল এনে দিতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের পেসাররা এখন আর কেবল রান আটকানোর ভূমিকা পালন করেন না, বরং তারা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছেন। পাকিস্তানের কন্ডিশন সাধারণত পেস সহায়ক হয়ে থাকে, যেখানে টাইগারা তাদের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন বলে অধিনায়ক বিশ্বাস করেন। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলগত সংহতি এবং আক্রমণাত্মক বোলিংকেই তিনি জয়ের মূল কৌশল হিসেবে দেখছেন।