চলমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগে ব্যাট হাতে ভালো ফর্মে থাকলেও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন লোকেশ রাহুল। দিল্লি ক্যাপিটালস দলের অন্যতম ভরসার ব্যাটার হিসেবে তিনি এখন পর্যন্ত বেশ কিছু ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ রান করলেও সাম্প্রতিক এক ধীরগতির ইনিংস ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার তার ব্যাটিং পদ্ধতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন।
চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে দিল্লির ইনিংস শুরু থেকেই ছিল ধীরগতির। ওপেনার হিসেবে নামলেও রাহুল ব্যাট হাতে স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাননি পাওয়ার প্লে-তে। মাত্র ১৩ বল মোকাবিলা করে ১২ রান করে তিনি আউট হন। তার এই ইনিংস দলীয় রানের গতি কমিয়ে দেয় বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। শেষ পর্যন্ত দিল্লি ক্যাপিটালস নির্ধারিত সময়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
পরবর্তীতে চেন্নাই সুপার কিংস শক্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করে সহজ জয় তুলে নেয়। তাদের পক্ষে সঞ্জু স্যামসন অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সঞ্জয় মাঞ্জরেকার মন্তব্য করেন, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওপেনারদের দায়িত্ব শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা। তার মতে, রাহুল কখনও খুব আক্রমণাত্মক আবার কখনও অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলেন, যা দলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে-তে তার ধীরগতির ব্যাটিং দলকে চাপে ফেলে দেয়।
তবে সাম্প্রতিক ফর্মের দিক থেকে রাহুলকে পুরোপুরি খারাপ বলা যায় না। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেছেন। বিশেষ করে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে তিনি ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যা দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে তিনি অপরাজিত ১৫২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েন।
এখন পর্যন্ত এই আসরে তার পারফরম্যান্স পরিসংখ্যানও চোখে পড়ার মতো।
| ম্যাচ সংখ্যা |
মোট রান |
গড় রান |
স্ট্রাইক রেট |
| ১০ |
৪৪৫ |
৪৯.৪৪ |
১৮০-এর বেশি |
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, রাহুল ধারাবাহিকভাবে রান পাচ্ছেন এবং বড় ইনিংস খেলতে সক্ষম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তার খেলার ধরণে আরও ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মানসিকতা প্রয়োজন, বিশেষ করে ইনিংসের শুরুতেই।
সব মিলিয়ে, রাহুলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তার সামগ্রিক ফর্ম তাকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে তিনি সমালোচনার জবাব দিতে কতটা সফল হন।