খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সম্প্রতি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক দলের সর্বশেষ র্যাঙ্কিং তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত এই নতুন তালিকায় দেখা গেছে, বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিশালী দল ভারত তাদের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করা ভারতীয় দলটি তাদের আধিপত্য বজায় রাখলেও সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিং হালনাগাদে তাদের রেটিং পয়েন্টে সামান্য অবনমন ঘটেছে।
আইসিসির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম তিনটি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভারত তাদের শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ইংল্যান্ড দ্বিতীয় এবং অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। তবে রেটিং পয়েন্টের ব্যবধানে দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের রেটিং পয়েন্টে কিছুটা পতন হলেও পরবর্তী দলগুলোর সাথে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান এখনো সম্মানজনক পর্যায়ে রয়েছে।
তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকা পঞ্চম এবং পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তালিকার সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। দলগুলোর এই অবস্থান মূলত গত এক বছরের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে তাদের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে।
এবারের র্যাঙ্কিং হালনাগাদে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের উন্নতি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। এর ফলে পূর্বে অষ্টম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা এক ধাপ পিছিয়ে নবম স্থানে নেমে গেছে। বাংলাদেশের এই উন্নতি এশীয় ক্রিকেটে তাদের ক্রমবর্ধমান শক্তির জানান দিচ্ছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে উঠে আসা আফগানিস্তান ক্রিকেট দল তাদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে দশম স্থান বজায় রেখেছে। জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম অবস্থানে রয়েছে।
নিচে আইসিসির সর্বশেষ প্রকাশিত টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১২টি দলের তালিকা প্রদান করা হলো:
| অবস্থান | দলের নাম | পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে পরিবর্তন |
| ১ | ভারত | অপরিবর্তিত |
| ২ | ইংল্যান্ড | অপরিবর্তিত |
| ৩ | অস্ট্রেলিয়া | অপরিবর্তিত |
| ৪ | নিউজিল্যান্ড | অপরিবর্তিত |
| ৫ | দক্ষিণ আফ্রিকা | অপরিবর্তিত |
| ৬ | পাকিস্তান | অপরিবর্তিত |
| ৭ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | অপরিবর্তিত |
| ৮ | বাংলাদেশ | ১ ধাপ উন্নতি |
| ৯ | শ্রীলঙ্কা | ১ ধাপ অবনতি |
| ১০ | আফগানিস্তান | অপরিবর্তিত |
| ১১ | জিম্বাবুয়ে | অপরিবর্তিত |
| ১২ | আয়ারল্যান্ড | অপরিবর্তিত |
আইসিসি সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর দলগুলোর জয়-পরাজয়ের হার এবং প্রতিপক্ষের সক্ষমতা বিবেচনা করে এই রেটিং ও র্যাঙ্কিং পয়েন্ট প্রদান করে থাকে। ২০২৬ সালের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টগুলোকে সামনে রেখে দলগুলোর এই অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারত শীর্ষস্থান ধরে রেখে তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অষ্টম স্থানে উঠে আসা আগামী সিরিজগুলোতে তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
তালিকায় নিচের সারির দলগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলো তাদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মতো উদীয়মান দলগুলোও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির লক্ষ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অংশ নিচ্ছে। এই র্যাঙ্কিং আগামী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোর গ্রুপ বিন্যাস ও বাছাইপর্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আইসিসির পরবর্তী বার্ষিক হালনাগাদ পর্যন্ত এই তালিকা অনুযায়ী দলগুলোর অবস্থান গণ্য করা হবে।