খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে একজনের শরীরে সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি ১১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হওয়া শিশুটির মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত ১১ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ জনই ঢাকার। এছাড়া রাজশাহীতে ২ জন এবং বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৩৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে অধিদপ্তর।
চলতি মাসের শুরু থেকেই পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ৪ মে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সর্বোচ্চ ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, যা চলতি বছরের এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব তীব্রতর হতে শুরু করে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ২০৮ জন শিশুর শরীরে ল্যাবরেটরিতে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ের মধ্যে মোট ২৭৯ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
নিচে গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গের সামগ্রিক চিত্র একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
হাম ও হামের উপসর্গ সংক্রান্ত সামগ্রিক তথ্য (১৫ মার্চ থেকে বর্তমান)
| বিবরণ | সংখ্যা/পরিমাণ |
| হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট শিশুর সংখ্যা | ৪৫,৪৯৮ জন |
| মোট হাম শনাক্ত হওয়া শিশুর সংখ্যা | ৬,২০৮ জন |
| উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা | ৩১,৯১২ জন |
| সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করা শিশুর সংখ্যা | ২৮,২৩৮ জন |
| হাম শনাক্ত হওয়ার পর নিশ্চিত মৃত্যু | ৫৭ জন |
| হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু | ২৭৯ জন |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৯১২ জন শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থতার হারও উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ হাজার ২৩৮ জন শিশু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং আক্রান্ত শিশুর সঠিক যত্ন এই রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশে এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের মধ্যে হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।