খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারি ১২-র নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়া এবং নগদ তোলা বাড়ার প্রভাবে জনজীবনে নগদ ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ নভেম্বর ২০২৫-এর ২,৬৯,০১৮ কোটি টাকা থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এ ৩,১০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকের বাইরে নগদ ৪০,৯৮২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, নির্বাচনী খরচের চাপ নগদ উত্তোলনের মূল কারণ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণা তীব্র হওয়ায় প্রার্থী ও দলের তহবিলের জন্য নগদ ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যালান্স শীট এবং আমানত নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই পাঁচটি সমস্যা-গ্রস্ত শারিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের একীভূতকরণ অনুমোদন করেছে এবং আরও ১১টি ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই করছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের আমানতে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদের সীমা নির্ধারণ করায় নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এর আগে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ হ্রাস পেয়েছিল, যা তরলতা পরিস্থিতির উন্নতি এবং আস্থার পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখাচ্ছিল। নিচের টেবিলে নগদ প্রবাহের পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| মাস | ব্যাংকের বাইরে নগদ (কোটি টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জুলাই ২০২৫ | ২,৮৭,২৯৪ | নগদ হ্রাস শুরু |
| আগস্ট ২০২৫ | ২,৭৬,৪৯৪ | আস্থার আংশিক পুনরুদ্ধার |
| সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২,৭৪,৭২৪ | হ্রাসের ধারা অব্যাহত |
| অক্টোবর ২০২৫ | ২,৭০,৪৪৯ | নির্বাচনের আগের প্রস্তুতি |
| নভেম্বর ২০২৫ | ২,৬৯,০১৮ | সর্বনিম্ন পর্যায়ে নগদ |
| ডিসেম্বর ২০২৫ | ২,৭৪,০০০ | পুনরায় বৃদ্ধি শুরু |
| জানুয়ারি ২০২৬ | ৩,১০,০০০ | নির্বাচনের আগে সর্বোচ্চ নগদ |
নিরীক্ষা কঠোর করার লক্ষ্যে, বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) ১১ জানুয়ারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে যে, একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ আমানত বা উত্তোলনের রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। এই নিয়ম সব ধরনের নগদ লেনদেনে প্রযোজ্য, যার মধ্যে কউন্টার সার্ভিস, এটিএম এবং নগদ-সংক্রান্ত অনলাইন লেনদেন অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচনকালীন সময়ে ডিজিটাল লেনদেনে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আনা হবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, রকেট ও নগদে দৈনিক লেনদেন ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হতে পারে, এবং প্রতিটি লেনদেন সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ হবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত লেনদেন ফেব্রুয়ারি ৮ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৩ পর্যন্ত স্থগিত থাকতে পারে।
ব্যাংকিং খাতের উপর জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার পেছনে ২০২৫ সালের সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রকাশের প্রভাব রয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অ-কর্মরত ঋণের পরিমাণ ৪.২০ লাখ কোটি থেকে ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
উচ্চ জীবনযাত্রার খরচও নগদ ব্যবহারের দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৫-এ সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশ, যা নভেম্বরের ৮.২৯ শতাংশের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।