আফতাব তাজ
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা এবং দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে গতকাল ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুরুতর আহত হন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নূরুল হক নূরসহ আরো কয়েকজন।
এর আগে বিকালের দিকে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয় ঘেরাও করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের হাতে থাকা মশালও জাতীয় পার্টির অফিসের দিকে ছুড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অফিস থেকে বাসাগামী মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে ।
একসময় দুটি দলের নেতাকর্মীরা ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় যৌথবাহিনী।
সংঘর্ষ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু তারা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।
অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নূরুল হক নূর গুরুতর আহত হন।
তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, গণ অধিকার পরিষদের কর্মসূচির ধরন ও কৌশল কতটা আইনসম্মত ও রাজনৈতিকভাবে সঠিক ছিল?
গণ অধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে এবং দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি আদায়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য সচিবালয় বা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে দাবি জানানো যেত। এমনকি সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য গণতান্ত্রিক উপায়ে কর্মসূচি নেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস ঘেরাও করা এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টা আইনসঙ্গত নয়, বিশেষত দলটি যখন বৈধভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জাতীয় পার্টি বর্তমানে বৈধ রাজনৈতিক দল। তাই তাদের অফিস রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো দল নিষিদ্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তও সরকারের। বাইরে থেকে জোর করে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, গণ অধিকার পরিষদের উচিত ছিল আইনি ও সাংবিধানিক পথে দাবি উত্থাপন করা, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
খবরওয়ালা/এমএজেড