খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে পৌষ ১৪৩২ | ২৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতা হলে এনসিপিকে তার কঠিন মূল্য দিতে হবে।
আজ রোববার সকালে নিজস্ব ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এনসিপির মধ্যে চলমান জোট আলোচনা ও পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। রাজনৈতিক পর্ষদের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য হিসেবে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী কোনও নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, দর্শন বা সহযোগিতায় যাওয়ার ফলে এনসিপি কঠিন মূল্য দিতে বাধ্য হবে—এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”
সামান্তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এনসিপির বর্তমান পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলীয় নেতা তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন এবং মীর আরশাদুল হক। উল্লেখযোগ্য, এই তিনজনই এনসিপি ঘোষিত ১২৫ আসনের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এ ছাড়া এনসিপির অন্তত ৩০ জন নেতা দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা সম্ভাব্য জোট নিয়ে নীতিগত আপত্তি প্রকাশ করেছেন এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, সামান্তার এই অবস্থান এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন জামায়াতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই জোট বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দলের অভ্যন্তরে আরও পদত্যাগ ও বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক | সামান্তা শারমিন |
| বক্তব্যের মূল বিষয় | জামায়াতের সঙ্গে জোট গেলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে |
| পদত্যাগকারী নেতা | তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, মীর আরশাদুল হক |
| প্রার্থী তালিকায় পদত্যাগকারী | তিনজনই ১২৫ আসনের প্রার্থী তালিকায় ছিলেন |
| নেতা স্মারকলিপি প্রদান | ৩০ জন নেতা, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে নীতিগত আপত্তি জানানো |
| নির্বাচনে অংশগ্রহণ | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আসন সমঝোতা বিষয়ক দ্বন্দ্ব |
এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে চলমান উত্তেজনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ধাক্কা দিতে পারে। সামান্তা শারমিনের স্পষ্ট অবস্থান দলীয় নীতির দিকে জনগণ ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।