খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য আকস্মিক ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও নিজেদের সংরক্ষিত কৌশলগত মজুত এখনই বাজারে না ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত দেশের শক্তিশালী জোট জি-৭। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের ‘প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে জোটটি বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।
গত সোমবার জোটভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মূলত গত রোববার রাতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জোটের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান যে, তেলের কৌশলগত মজুত (Strategic Petroleum Reserve – SPR) ছাড়ার বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করতে চায় না জি-৭। তাদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা কার্যকর করার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা প্রয়োজন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আরও বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রীরা ঐকমত্য পোষণ করেন।
জি-৭ জোটের বর্তমান রূপরেখা ও সদস্য দেশগুলোর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
| সদস্য দেশের নাম | মহাদেশ | বিশ্ব অর্থনীতিতে অবস্থান |
| যুক্তরাষ্ট্র | উত্তর আমেরিকা | শীর্ষ অর্থনীতি ও তেলের বড় ভোক্তা |
| যুক্তরাজ্য | ইউরোপ | গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র |
| কানাডা | উত্তর আমেরিকা | জ্বালানি তেলের বড় উৎপাদক |
| জাপান | এশিয়া | শীর্ষ আমদানিকারক ও প্রযুক্তি শক্তি |
| জার্মানি | ইউরোপ | ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি |
| ফ্রান্স | ইউরোপ | অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত রাষ্ট্র |
| ইতালি | ইউরোপ | গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র |
সোমবারের এই প্রাথমিক আলোচনার পর মঙ্গলবার জি-৭ দেশগুলোর জ্বালানিমন্ত্রীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিকনফারেন্স বা দূরবর্তী আলোচনার আয়োজন করেছেন। সেখানে কারিগরি দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জোটের শীর্ষ নেতাদের (রাষ্ট্রপ্রধান) একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তেলের মজুত অবমুক্ত করা হবে কি না—সেই চূড়ান্ত ঘোষণাটি এই শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন থেকেই আসবে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। জি-৭ দেশগুলো মূলত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট। তবে এখনই মজুত না ছাড়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা ওপেকের (OPEC) মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পরিণামে, জি-৭ জোটের এই ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ করার নীতি বিশ্ববাজারে তেলের দামকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।