মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলোচিত কিশোর জুনায়েদ (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। ঘটনার তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের আলীশারকুল গ্রামের ছুরত আলী ওরফে ছুরুক আলীর ছেলে মো. মারুফ (২৪) এবং একই ইউনিয়নের বাদে আলীশা এলাকার তোরাব মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (২৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভূনবীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত জুনায়েদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম উদ্ধার করা হয়, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় আলীশারকুল এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় কিশোর জুনায়েদ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার কামারপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া সৃষ্টি করে।
নিহত জুনায়েদ আলীশারকুল গ্রামের দুবাই প্রবাসী রমিজ মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অল্প বয়সী এই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তার ও মামলার বর্তমান অবস্থা
| বিষয় |
তথ্য |
| নিহতের নাম |
জুনায়েদ (১৪) |
| পেশা/পরিচয় |
সপ্তম শ্রেণির ছাত্র |
| ঘটনার স্থান |
আলীশারকুল ও কামারপাড়া, শ্রীমঙ্গল |
| নিখোঁজ |
২৭ মার্চ সন্ধ্যা |
| মরদেহ উদ্ধার |
২৯ মার্চ রাত |
| গ্রেপ্তার |
মো. মারুফ (২৪), মো. জুয়েল মিয়া (২৭) |
| উদ্ধার আলামত |
নিহতের ব্যবহৃত সিম কার্ড |
| তদন্তকারী সংস্থা |
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ |
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার রহস্য উদঘাটনে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও মাঠপর্যায়ের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।