খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামে ‘জুলাই আন্দোলনে’ দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ১২৬ জনকে আসামি করে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলাগুলো দায়ের করেন নিহত দুই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা। এর মধ্যে এক মামলায় আওয়ামী লীগের মৃত দুই নেতাকেও আসামি করা হয়েছে।
একটি মামলার বাদী পেশায় ব্যবসায়ী আবদুল মোতালেব। তার ছেলে কাউসার মাহমুদ বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে কাউসার নগরের নিউমার্কেট গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ১৩ অক্টোবর ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আলোচনা করে মামলা করতে গিয়ে সময় লেগেছে।
এই মামলার এজাহারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেবাশীষ গুহ বুলবুলকে ৫৫ নম্বর এবং নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য অমল মিত্রকে ৫৮ নম্বর আসামি করা হয়। অথচ অমল মিত্র ২০২৩ সালের ৭ মে এবং দেবাশীষ গুহ বুলবুল ২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এছাড়া মামলায় নাম উল্লেখ রয়েছে সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক এমপি এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, সাবেক মেয়র আ. জ. ম. নাছির উদ্দিন, মেয়র রেজাউল করিমসহ ৯১ জনের।
এজাহারে মৃতদের পাশাপাশি একাধিক অসংগতিও রয়েছে। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে দুইবার করে আসামি করা হয়েছে। যেমন: নগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম এবং নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর — এদের নাম এজাহারে দুইবার করে এসেছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী নিহত কাউসারের বাবা আবদুল মোতালেব বলেন, ‘আলোচনা করে মামলাটি করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’
অন্য মামলার বাদী সাহাব উদ্দিনের ছেলে মাদ্রাসাপড়ুয়া নিজাম উদ্দিন গত বছরের ৫ আগস্ট নগরের লালদীঘি পাড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই মামলায় আওয়ামী লীগের আরও ৩৫ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, ‘দুটি মামলার জন্য দুজন বাদী এজাহার দিয়েছেন। এর মধ্যে যদি কোনো মামলায় মৃত ব্যক্তি বা নিরীহ কেউ আসামি হয়ে থাকেন, তদন্ত করে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড