খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২১শে ফেব্রুয়ারি, অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের নানা জেলার মানুষ ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসন, সংসদ সদস্য, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি একত্রিত হয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোনাজাত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছে। এই প্রতিবেদনটি কিছু জেলার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছে।
| জেলা | প্রধান অতিথি/উপস্থিতি | সময় ও স্থান | বিশেষ কার্যক্রম | অন্যান্য উপস্থিতি |
|---|---|---|---|---|
| টাঙ্গাইল | প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু | রাত ১২:০১, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার | পুষ্পস্তবক অর্পণ, গানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা | জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রেসক্লাব, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন |
| সিরাজগঞ্জ | বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ | রাত ১২:০১, শহীদ বেদী | পুষ্পস্তবক অর্পণ, শ্রদ্ধা বক্তব্য | জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান |
| নাঙ্গলকোট | উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন | শহীদ মিনার | পুষ্পস্তবক অর্পণ | সামাজিক, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন |
| মাগুরা | সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান | রাত ১২:০১, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রাঙ্গণ | পুষ্পস্তবক অর্পণ, শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান | জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সর্বস্তরের মানুষ |
| জয়পুরহাট | প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী | রাত ১২:০১, শহীদ মিনার | পুষ্পস্তবক অর্পণ | সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দলীয় নেতৃবৃন্দ |
| ময়মনসিংহ (ফুলপুর) | সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মদুল্লাহ | রাত ১২:০১, উপজেলা পরিষদ চত্বরে | পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোনাজাত | উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন |
টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি জেলা প্রশাসক শরীফা হকের নেতৃত্বে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধকে দেশের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সংহতি নিয়ে গড়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে এই ইতিহাসের সংরক্ষণ জরুরি।”
নাঙ্গলকোটে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। মাগুরা ও জয়পুরহাটে শহীদ মিনারে সাধারণ মানুষও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
ময়মনসিংহের ফুলপুরে উপজেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনরা কেন্দ্রবিন্দুতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত পরিচালনা করে জাতির শান্তি ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার পরিতোষ সূত্রধর ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান করেন।
এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ ও প্রচার করা হচ্ছে। জাতির সন্তানদের মধ্যে ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ধারণ করতে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
শ্রদ্ধা ও স্মরণে প্রতিটি জেলা তার নিজস্ব রীতি ও আয়োজনে শহীদদের আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।