উজানে টানা ভারি বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ একাধিক নদীর পানি হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে।
এতে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৭ সেন্টিমিটার নিচে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। পাশাপাশি ধরলায় ৪ সেমি, দুধকুমারে ১৮ সেমি এবং ব্রহ্মপুত্রে ২১ সেমি পানি বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, চর ভগবতীপুরসহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদীর পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সতর্কতা বা প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়নি।
চর ভগবতীপুরের রশিদ আলী বলেন, “আজ রাত থেকে পানি বাড়ছে। কিন্তু সরকারি কেউ আসে নাই, মাইকও শোনা যায় না।”
রাজারহাটের আসাদুজ্জামান জানান, “চরবাসীরা নিজেরাই প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা আসেনি।”
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর কিছু নিম্নাঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও নদীতে পানি না থাকায় খরার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। এখন হঠাৎ পানি বাড়ায় পাকা ধান, মরিচ, বেগুনসহ শাকসবজির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, “সরকারি প্রস্তুতি রয়েছে, তবে এখনো প্রচার শুরু হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে প্রচারণা চালানো হবে।”
উল্লেখ্য, ভারতের আসাম, অরুণাচল, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে টানা বর্ষণের কারণে বাংলাদেশের নদনদীতে পানি বাড়ছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষজন রয়েছেন উৎকণ্ঠায়।
খবরওয়ালা/আশ



