খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সম্প্রতি উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। ফলে বর্তমানে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এখনো নেই। রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। পেট্রোল পাম্পে যে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, তা মানুষের উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণে তৈরি হয়েছে, সরবরাহের অভাবে নয়।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘ লাইন প্রধানত মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য। “এই ধরনের যানবাহনের প্রধান জ্বালানি হল অকটেন এবং পেট্রোল। এই দুই ধরনের জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পেট্রোল প্রায় সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশে পরিশোধিত হয়, অকটেনেরও একটি বড় অংশ দেশে উৎপাদিত হয়। মূলত ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি,” তিনি বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের মধ্যে জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে বা দাম বাড়বে—এ ধরনের আশঙ্কার কারণে আগে থেকে জ্বালানি কেনার প্রবণতা বেড়েছে। “ফলে পাম্পগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে এতদিনেও কোনো পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ বন্ধ হয়নি,” প্রতিমন্ত্রী জানান।
সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি দেশে ৩০ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি জাহাজ পৌঁছেছে, আরেকটি আউটার অ্যাঙ্করেজে অবস্থান করছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে খালাস শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ১২ মার্চ আরও একটি জাহাজ আগমনের কথা রয়েছে।
ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের সঙ্গে একটি পাইপলাইন চুক্তির মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টন জ্বালানি আসছে। এর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে এবং বাকি অংশ ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই চুক্তি প্রতি বছর নবায়ন হয় এবং বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক জাহাজ এবং জ্বালানি সরবরাহের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ | জাহাজের অবস্থা | জ্বালানির পরিমাণ (টন) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৯ মার্চ | পৌঁছেছে | ১৫,০০০ | সরবরাহ খালাস প্রক্রিয়া চলছে |
| ১০ মার্চ | আউটার অ্যাঙ্করেজে | ১৫,০০০ | দুপুরে খালাস শুরু হবে আশা |
| ১২ মার্চ | আগমনের অপেক্ষায় | ১৫,০০০ | সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে চলবে |
প্রতিমন্ত্রী শেষ করেন, “দেশবাসী নিশ্চিন্ত থাকুক, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সংকট নেই। রমজান ও ঈদ উদযাপনের জন্য সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এবং মানুষের উদ্বেগ সময়ের সঙ্গে কমবে।”