খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগে এক প্রিসাইডিং অফিসারকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার রাতে কালীগঞ্জের সলিমুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের আগেই পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সলিমুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে আকস্মিক অভিযান চালায় প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের দল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রিজওয়ানা নাহিদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেনসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তল্লাশিকালে প্রিসাইডিং অফিসারের দপ্তর থেকে পোলিং এজেন্টদের আগাম স্বাক্ষর করা মোট ২৩টি ফাঁকা (ব্ল্যাংক) রেজাল্ট শিট জব্দ করা হয়। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ফলাফল শিট পূরণ করার কথা থাকলেও এখানে তা আগেই স্বাক্ষর করিয়ে রাখা হয়েছিল।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নির্বাচনী এলাকা | ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) |
| ঘটনাস্থল | সলিমুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র |
| অভিযুক্ত কর্মকর্তা | জেসমিন আরা (সহকারী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর) |
| জব্দকৃত আলামত | ২৩টি পোলিং এজেন্ট স্বাক্ষরিত ফাঁকা রেজাল্ট শিট |
| অভিযান পরিচালনাকারী | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও, পুলিশ ও সেনাবাহিনী |
| গৃহীত ব্যবস্থা | প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার ও নতুন নিয়োগ |
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা জানান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেবের একজন পোলিং এজেন্ট তাঁর নিয়োগপত্র জমা দিতে গেলে প্রিসাইডিং অফিসার জেসমিন আরা ‘কাজ এগিয়ে রাখার’ অজুহাতে তাঁকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করতে বলেন। উক্ত এজেন্ট বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অনিয়মটি ধরা পড়ে। ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং এটি যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিপন্থী তা প্রমাণিত হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসার জেসমিন আরার দাবি, তিনি কেবল ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে নয় বরং দ্রুত কাজ শেষ করার মানসিকতা থেকে করেছিলেন বলে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন।
ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল্লাহ মাসউদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রিসাইডিং অফিসার জেসমিন আরাকে তাঁর দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলে নতুন একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত ২৩টি বিতর্কিত রেজাল্ট শিট বাতিল করে নতুন ও ফ্রেশ রেজাল্ট শিট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা রক্ষায় এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা কোনো ধরনের কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” এই ঘটনার পর নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ও তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।