খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের টঙ্গীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোর রাতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ পাগার পাঠানপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সাম্প্রতিক একটি সংঘর্ষের ঘটনার সাথে জড়িত বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ওই এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষ ও প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল পাগার পাঠানপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে প্রথমে জসিম ও শরিফুল আলম আরিফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার জনৈক মজিবরের বাড়ির একটি ভাড়াটিয়া কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। উক্ত তল্লাশি অভিযানে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচয় যাচাই করে পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। নিচে তাদের পরিচয় বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নাম | পিতার নাম | বর্তমান/স্থায়ী ঠিকানা |
| ০১ | জসিম (৪০) | মৃত শহিদুল ইসলাম | পাগার পাঠানপাড়া, টঙ্গী, গাজীপুর। |
| ০২ | শরিফুল আলম আরিফ (৩২) | মৃত নুর রহমান | গ্রাম: নয়া কুঠিরপাড়া, ডাকঘর ও থানা: লালমনিরহাট সদর, জেলা: লালমনিরহাট। |
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্বের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করে আসামিদের গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের এ ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
পুলিশি এই তৎপরতার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, এলাকায় এ ধরনের অবৈধ অস্ত্রের উৎস সন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঠানপাড়া ও ঝিনু মার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।