খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নেপালের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ। ৩৫ বছর বয়সী শাহের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পথে রয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলের আলোকে দেখা যাচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের সমর্থন এবং শহুরে ভোটারদের উৎসাহে পার্টিটি নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জারদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে।
শনিবারের ভোট গণনার পরে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) আরএসপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে। কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এএফপিকে বলেন,
“প্রবণতা দেখলে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি অনেক আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কয়েকটি আসনে জয়লাভ করেছে।”
প্রাথমিক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রবীণ মার্ক্সবাদী নেতা কেপি শর্মা ওলি হারতে পারেন, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে একটি নাটকীয় মোড় হবে।
নিচের টেবিলে প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফল দেখানো হলো (১৬৫টি আসনের মধ্যে ২৪টির ফলাফল প্রকাশিত):
| দল | জয়ী আসন | উল্লেখযোগ্য পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| আরএসপি | ১৮ | বাকি ৯৯ আসনে এগিয়ে |
| নেপালি কংগ্রেস | ৫ | জোট সরকারের বৃহত্তম দল, নতুন নেতা গগন থাপা পিছিয়ে |
| সিপিএন-ইউএমএল | ১ | সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল |
আরও উল্লেখযোগ্য হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ভিত্তিক ১১০ আসনের ভোট গণনা, যেখানে আরএসপি অর্ধেকের বেশি ভোট নিশ্চিত করেছে, যা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা আরও দৃঢ় করছে। কমিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, তবে প্রাথমিক ফলাফল সোমবারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে চলছে।
রাজনৈতিক পটভূমি বিবেচনায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দ্রুত দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বড় বিক্ষোভে রূপ নিয়েছিল। ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং কেপি শর্মা ওলির সরকার পতিত হয়।
শুক্রবার থেকে কাঠমান্ডুর রাস্তায় বালেন্দ্র শাহের সমর্থকরা বিজয় উৎসব শুরু করেছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকরা এটিকে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তরুণদের বিজয় হিসেবে দেখছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলির বিরুদ্ধে তাঁর বড় ব্যবধানের এগিয়ে থাকা, এবং নেপালি কংগ্রেসের নতুন নেতা গগন থাপার পিছিয়ে থাকা, এই নির্বাচনের নাটকীয়তার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।