খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে মাঘ ১৪৩২ | ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকায় অবস্থিত এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় আবারও শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার সকাল থেকে কারখানার ভিতরে কাজ করার সময় একে একে শ্রমিকরা বমি, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা নিয়মিতভাবে কাজে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর একের পর এক শ্রমিক কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা এবং সাধারণ অস্বস্তিজনিত উপসর্গে ভুগছেন।
এর আগেও গত সোমবার একই কারখানায় অন্তত ২০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন শ্রমিকরা এক মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কারখানার ভিতরে কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, “শ্রমিকরা কেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অসুস্থ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
নিচের টেবিলটি অসুস্থ শ্রমিকদের প্রাথমিক তথ্য উপস্থাপন করছে:
| তারিখ | অসুস্থ শ্রমিক সংখ্যা | প্রধান উপসর্গ | চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতাল |
|---|---|---|---|
| ১০ জানুয়ারি, সোমবার | ২০ | বমি, মাথা ঘোরা, অস্বস্তি | শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |
| ১৪ জানুয়ারি, বুধবার | ১০০+ | বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা | শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশের হাসপাতালসমূহ |
শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার ভেতরে ভেন্টিলেশন সিস্টেম যথাযথভাবে কাজ করছে না, যা এই অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ এখনো বিষয়টি নিশ্চিতভাবে স্বীকার করেনি।
অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অসুস্থ শ্রমিকদের অবিলম্বে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কারখানার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছু শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছেন।