খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চলতি মৌসুম যেন এক পুনরাবৃত্ত নাটক—সুযোগ আসে, আশা জাগে, আর শেষ পর্যন্ত হতাশাই অপেক্ষা করে। মঙ্গলবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল সেই একই চিত্রের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। টপ ফোরে ওঠার জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ এভারটন টানা ১৫ বছর এই মাঠে জয় পায়নি। তার ওপর ইদ্রিসা গেইয়ের লাল কার্ডের কারণে দ্বিতীয়ার্ধের ৭৭ মিনিট এভারটন ১০ জন নিয়ে খেলেছে। তবুও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যাচটি ১–০ গোলে হারল।
শুরুর ১০ মিনিটেই ইউনাইটেডের বেহাল দশা স্পষ্ট হয়ে যায়। পাসিংয়ের ভুল, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণহীনতা, এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা এভারটনকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দেয়।
প্রথম ১০ মিনিটের পরিসংখ্যান ছিল এমন:
| পরিসংখ্যান | এভারটন | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
|---|---|---|
| ফাইনাল থার্ডে সফল পাস | ১৪ | ১ |
| বল দখল | ৬০% | ৪০% |
| শট | ২ | ০ |
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, এভারটনই ম্যাচের শুরুতে ছন্দে ছিল।
এরপরই আসে ম্যাচের নাটকীয় ঘটনা। ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট ব্লকের পর ইদ্রিসা গেইয় হঠাৎই সহখেলোয়াড় মাইকেল কিনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে তাকে চড় মারেন। রেফারি বিন্দুমাত্র দেরি না করে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এতে এভারটন ১০ জন হয়ে যায় এবং ইউনাইটেড ম্যাচে ফিরে আসার সুবর্ণ সুযোগ পায়।
কিন্তু ইউনাইটেড সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বরং ৩০তম মিনিটে কিয়ারন ডিউসবেরি-হল দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। গোলটি আধুনিক ফুটবলে ইউনাইটেডের অন্যতম পরিচিত দুর্বলতা—মাঝমাঠে জায়গা ছাড়ার পর দীর্ঘ দূরত্বের শট ঠেকাতে ব্যর্থতা—আবারও সামনে নিয়ে আসে।
ইউনাইটেড এরপর আক্রমণের চাপ বাড়ালেও তা ছিল অত্যন্ত অগোছালো। ২৫টি শটের মধ্যে মাত্র ৬টি ছিল অন-টার্গেটে। বাকিগুলোর বেশিরভাগই ছিল খাপছাড়া ও পরিকল্পনাহীন।
ম্যাচের শুটিং পরিসংখ্যান:
| সূচক | ইউনাইটেডের সংখ্যা |
|---|---|
| মোট শট | ২৫ |
| অন-টার্গেট | ৬ |
| পোস্টে আঘাত | ০ |
| ব্লকড শট | ৮ |
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ম্যাথাইস ডি লিটের দুর্বল শট সরাসরি পিকফোর্ডের হাতে জমা পড়া ছিল পুরো ম্যাচের হতাশার প্রতিচ্ছবি।
ম্যাচ শেষে কোচ রুবেন আমোরিম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের এমন খেলে জেতার কোনো যোগ্যতাই ছিল না। এখনও আমরা সেই মানের ধারেকাছেও নেই যেখানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থাকা উচিত।”
অন্যদিকে এভারটন কোচ ডেভিড ময়েস বলেন, “১০ জন নিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জেতা—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। খেলোয়াড়েরা আজ নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে খেলেছে।”
এক বছর ধরে একই ভুল, একই বিশৃঙ্খলা, একই সুযোগ হাতছাড়া—ইউনাইটেড প্রতি ম্যাচেই যেন এক নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। স্কোয়াডে তারকা আছে, সুযোগ থাকে, প্রতিপক্ষ ভুল করে—তবুও ইউনাইটেডের জেতার রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে প্রশ্নটি আবারও উঠে আসে—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শিখবে কবে?