খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ২:৩৮ পিএম
মৌসুমী বায়ুর প্রাবল্য ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অতি ভারী বর্ষণ। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর সিংহভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের জল যুক্ত হওয়ায় পুরো নগরী কার্যত এক অবরুদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে, যার ফলে চরম চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ সাধারণ নগরবাসী।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে রেকর্ড ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করা হয়েছে। বৃষ্টির এই মাত্রা চলতি মরশুমের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। অতি ভারী এই বর্ষণের কারণে নগরীর পাহাড়গুলোতে মাটি ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সোমবার সকাল থেকেই পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির যুগপৎ প্রভাবে নগরীর চকবাজার, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, কমার্স কলেজ এলাকা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা এবং বড়পোলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। বহু বাসাবাড়ি, নিচতলার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলোতে গণপরিবহণ ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে অফিসগামী চাকুরিজীবী, পথচারী এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার কারণে নগরীর অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরগামী যাত্রী এবং জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ গণপরিবহণ সংকটের কারণে অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। আজ সকালে নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সশরীরে পরিদর্শন করতে মাঠে নামেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত প্রতিবন্ধকতা অপসারণের নির্দেশ দেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, সাগরে এই মুহূর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য