খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ২:৪৫ পিএম
বলিউডের চিরসবুজ ও রহস্যময়ী অভিনেত্রী রেখার সঙ্গে পাকিস্তানের আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় পপ গায়ক হাসান জাহাঙ্গীরের এক গোপন প্রেমের গুঞ্জন রয়েছে বিনোদন জগতে। দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই গুঞ্জন অনুযায়ী, রেখা নাকি একসময় হাসান জাহাঙ্গীরকে নিজের হাতে আবেগঘন প্রেমপত্র লিখেছিলেন। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই মুখরোচক আলোচনাটি আদেও সত্য নাকি স্রেফ রটনা, তা এবারও পুরোপুরি স্পষ্ট করলেন না ‘হাওয়া হাওয়া’ খ্যাত এই পাকিস্তানি গায়ক।
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন হাসান জাহাঙ্গীর। সেখানে অবধারিতভাবেই সঞ্চালক তাকে রেখার সেই বহুল চর্চিত প্রেমপত্র নিয়ে প্রশ্ন করেন। তবে সরাসরি কোনো হ্যাঁ বা না সূচক উত্তর না দিয়ে চিরচেনা হাসিমুখে বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যান এই পপ তারকা। রেখা সত্যিই তাকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন কিনা—এমন প্রশ্নের পিঠে তিনি রহস্য জিইয়ে রেখে বলেন, কিছু গোপন ও ব্যক্তিগত বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সবকিছু আসলে সবার সঙ্গে কিংবা জনসমক্ষে ভাগ করে নেওয়া যায় না। তার এমন হেঁয়ালিভরা মন্তব্যের পর অবসান ঘটার বদলে পুরোনো সেই গুঞ্জন নতুন করে ডালপালা মেলার সুযোগ পেল। কারণ, গায়ক যেমন বিষয়টি স্বীকার করেননি, ঠিক তেমনি জোর গলায় অস্বীকারও করেননি।
বলিউডের প্রতি নিজের ভালোলাগা এবং ভারতীয় তারকাদের সঙ্গে চমৎকার রসায়নের স্মৃতিচারণও করেন এই পাকিস্তানি শিল্পী। আলাপচারিতায় তিনি জানান, অমিতাভ বচ্চন, মিঠুন চক্রবর্তী, শাহরুখ খান, সালমান খান, গোবিন্দ, মাধুরী দীক্ষিত, মন্দাকিনী এবং প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের মতো শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ও হৃদ্যতা রয়েছে। এই তালিকার রেশ ধরে সঞ্চালক যখন রসিকতা করে জানতে চান যে এদের মধ্যে রেখা বাদে আর কে কে তাকে প্রেমপত্র লিখেছেন? তখন হেসে উঠে গায়ক বলেন, “সবাই লিখেছে, সবাই লেখে। এমনকি আমিও লিখেছি!”
আড্ডার একপর্যায়ে হাসান জাহাঙ্গীর নিজের জীবনের অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার গল্প শোনান। তিনি দাবি করেন, একবার একদল সশস্ত্র ডাকাত তার পথরোধ করে মোবাইল ফোন ও গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু চরম বিপদের সেই মুহূর্তে তিনি যখন দস্যুদের কাছে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করেন, তখন তারা স্তম্ভিত হয়ে যায়। পপ তারকা হাসান জাহাঙ্গীরকে চিনতে পেরে ডাকাত দল মুহূর্তের মধ্যে তাদের ভুল বুঝতে পারে। এরপর তারা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ছিনতাই করা মোবাইল ও চাবিসহ সব জিনিসপত্র ফিরিয়ে দেয় এবং গায়কের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বিনোদন ও ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও নিজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এই গায়ক। হাসান জাহাঙ্গীর মনে করেন, দেশপ্রেম থাকা অত্যন্ত জরুরি, তবে তা যেন কখনো প্রতিবেশীর প্রতি ঘৃণা বা সংঘাতের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। নিজের দেশকে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সংস্কৃতির আদান-প্রদান ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে জোরালো মত দেন তিনি। যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না উল্লেখ করে তিনি আলোচনার মাধ্যমে শান্তি খোঁজার আহ্বান জানান।
কথাপ্রসঙ্গে তিনি বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকে পাওয়া একটি অমূল্য উপদেশের কথা স্মরণ করেন। ধর্মেন্দ্র তাকে একবার বলেছিলেন, “চিন্তাভাবনা সবসময় উঁচুতে রাখবে, তবে নিজের চোখ দুটো রাখবে মাটির দিকে নিচু করে।” এই কথাটিকে জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা হিসেবে মনে করেন হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, এই একটি বাক্য তাকে জীবনে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগানোর পাশাপাশি সবসময় মাটির মানুষ হিসেবে বিনয়ী থাকতে শিখিয়েছে। আশির দশকে ‘হাওয়া হাওয়া’ গানটি দিয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ঝড় তোলা হাসান জাহাঙ্গীর আজও দুই দেশের শ্রোতাদের মাঝে এক মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।
মন্তব্য