রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মামুন প্রামাণিক (৩৫) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় খুঁটির সঙ্গে ঝুলে ছিলেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত মামুন প্রামাণিক বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার গোচর মহল্লার ভাদু প্রামাণিকের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার হামিদুকুড়া মাঠ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মামুন প্রথমে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে একটি তার কেটে ফেলেন। এরপর পাশের আরেকটি খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমার লক্ষ্য করে এগোতে গিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ওঠার সময়ই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি খুঁটিতে ওঠার আগে গামছা দিয়ে নিজের শরীর বেঁধে নিয়েছিলেন, যাতে নিচে না পড়ে যান। কিন্তু বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর তিনি সারা রাত ওই অবস্থাতেই খুঁটিতে ঝুলে থাকেন।
স্থানীয় এক কৃষক সকালে মাঠে বেগুন তুলতে গিয়ে প্রথমে ঘটনাটি দেখতে পান। পরে তিনি গ্রামবাসীদের খবর দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দ্রুত লোকজন জড়ো হয়ে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানান।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, মামুনের জীবনযাপন ছিল অস্থির ও বেপরোয়া। তার শ্যালক সোহরাব হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, “তার কাজই ছিল চুরি-ছিনতাইয়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ানো। তার বিষয়ে আমাদের কোনো দাবি নেই।”
অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম জানান, তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। স্বামীর অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনের কারণে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন এবং ঈশ্বরদী ইপিজেডে কাজ করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মামুন তাকে জানায় যে সে কাজের জন্য বাইরে যাচ্ছে এবং এক হাজার টাকা নেয়। পরে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া পাননি। শেষবার কথা হয় যখন তিনি জানান যে শরীর খারাপ, কাজ করতে যাননি এবং আড়ানীতে আছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, ওই টাকা দিয়ে তিনি বিদ্যুতের তার কাটা ও ট্রান্সফরমার চুরির প্রস্তুতি নেন। ঘটনাস্থল থেকে লোহার রড, বাঁশ ও কাটার মতো সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, যা তার পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।
বাঘা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সকাল ৭টা ২০ মিনিটে খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে আটটার দিকে মরদেহ নামানো হয়।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেরাজুল হক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও গ্রামীণ এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ
সময়/পর্ব
ঘটনা
বৃহস্পতিবার রাত
হামিদুকুড়া মাঠে বিদ্যুতের খুঁটিতে ওঠার চেষ্টা
রাতের কোনো সময়
একটি তার কেটে ফেলা, দ্বিতীয় খুঁটিতে ওঠার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট