খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের মহানাটকীয় ফাইনাল শেষে উৎসবের আমেজ এখন স্পেনের আকাশ-বাতাসে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিশ্বজয়ের ট্রফি হাতে দেশে ফিরেছেন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। চিরাচরিত ঐতিহ্য মেনে রাজধানী মাদ্রিদের রাজপথে আয়োজন করা হয়েছিল সুবিশাল বিজয় প্যারেডের। লাখো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত সেই উদযাপনেই তৈরি হলো এক নতুন বিতর্ক। ফাইনালের একমাত্র জয়সূচক গোলদাতা বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেররান তরেস বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে দিলেন এক তীর্যক খোঁচা।
মাদ্রিদের উন্মুক্ত বাসে স্প্যানিশদের উৎসব চলাকালে তরেসের মাথায় দেখা যায় লাল রঙের একটি বিশেষ বেসবল টুপি। প্রথম দর্শনে এটি সাধারণ মনে হলেও টুপির লেখাটি সবার নজর কাড়ে। সেখানে বড় হরফে লেখা ছিল—‘মেক স্পেন গ্রেট এগেইন’। রাজনৈতিক সচেতন মহলের কাছে এটি বুঝতে একদমই সময় লাগেনি যে, এটি ট্রাম্পের বিখ্যাত নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর একটি স্পষ্ট প্যারোডি। ২০১৬ এবং ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক প্রচারণায় এই স্লোগানটি ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অতিরিক্ত উপস্থিতি নিয়ে টুর্নামেন্ট জুড়েই আলোচনা-সমালোচনা চলেছে। ফাইনাল ম্যাচে বিজয়ী স্পেন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন ট্রাম্প নিজেই। তবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিজয়ী ফুটবলারদের পাশে ট্রাম্প দাঁড়িয়ে থাকেন এবং সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এতে করে তৈরি হয় এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। গ্যালারি থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষক—সবাই বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হন। খেলোয়াড়দের অর্জনের মুহূর্তটিতে ট্রাম্পের এমন উপস্থিতি স্প্যানিশ ফুটবলাররাও যে সহজে মেনে নিতে পারেননি, তরেসের এই ক্ষোভ প্রকাশ তারই প্রমাণ দেয়।
সমালোচনার শুরু অবশ্য ফাইনালের বহু আগে থেকেই। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে ফিফা তাকে বিতর্কিত ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান করলে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
টুর্নামেন্ট চলাকালেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ফিফা। গুঞ্জন ওঠে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর নিজের আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজ দেশকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও বালোগান খেলেও সেদিন যুক্তরাষ্ট্রকে জেতাতে পারেননি, তবুও খেলাটির নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই।
ফুটবলের মঞ্চে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে খবর হওয়ার এই চেষ্টাকে ট্রাম্পের দিকেই ফিরিয়ে দিলেন তরেস। টুর্নামেন্টের সেরা দল হিসেবে ট্রফি জিতে ট্রাম্পের নিজের অস্ত্র দিয়েই তাকে এক হাত নিলেন এই তরুণ স্প্যানিশ তারকা।