খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা থাকলেও, তার আগেই ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত শান্তি শর্ত কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন।
রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন, জেলেনস্কি চাইলে ‘প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, নাহলে লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।’
ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে ক্রিমিয়া ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়তে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছা থেকে সরে আসতে হবে।
এর মাত্র দেড় ঘণ্টা পর জেলেনস্কি এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যুদ্ধ থামানোর দায়িত্ব ইউক্রেনের নয়, বরং রাশিয়ার। তিনি লেখেন, ‘এই যুদ্ধ রাশিয়াই শুরু করেছে, তাদেরই শেষ করতে হবে। আমি আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের যৌথ শক্তি রাশিয়াকে প্রকৃত শান্তির পথে বাধ্য করবে।’
জেলেনস্কি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমরা ইউক্রেনকে রক্ষা করব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্রিমিয়া কখনোই হারানো উচিত হয়নি, যেমন ২০২২ সালের পর কিয়েভ, ওডেসা বা খারকভ হারানো হয়নি।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়, আর সেই সময় ইউক্রেন সরকার পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহ দমনে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।
যদিও কোনো ছাড় দেওয়ার পক্ষে নন, তবুও জেলেনস্কি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যেই এই যুদ্ধ দ্রুত ও টেকসইভাবে শেষ করার দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে।’
জেলেনস্কি এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন আলাস্কায় অনুষ্ঠিত গত শুক্রবারের এক সম্মেলনের পর। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্প বৈঠক করে ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পুতিন বৈঠকের পর বলেন, স্থায়ী শান্তির জন্য ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্যপদ প্রত্যাশা ত্যাগ করতে হবে, নিরস্ত্রীকরণের পথে যেতে হবে এবং বর্তমান ভূখণ্ড বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। এর মধ্যে ক্রিমিয়া ছাড়াও দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল রয়েছে—যেগুলো ২০২২ সালে গণভোটে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়।
সূত্র: আরটি
খবরওয়ালা/শরিফ