ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা ইতালির

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। গাজার যুদ্ধোত্তর অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকির লক্ষ্যে এই পর্ষদ গঠনের কথা বলা হলেও ইতালির মতে, পর্ষদের কাঠামো ও ক্ষমতাবিন্যাস দেশটির সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আইনগত ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এতে যুক্ত হওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করেছে রোম।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানান, ইতালির সংবিধানের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠনে যোগ দিতে হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতার নীতি নিশ্চিত থাকতে হয়। কিন্তু ট্রাম্পের গঠিত শান্তি পর্ষদের সনদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ভেটোক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যেকোনো সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর হাতেই ন্যস্ত। এই কাঠামোতে সদস্যদের সমান অধিকার ও কর্তৃত্বের প্রশ্নে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, যা সংবিধানসম্মত নয় বলে মনে করছে ইতালি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজানি একই সঙ্গে এও বলেন, ইতালি শান্তি প্রচেষ্টার বিরোধী নয়। বরং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যেকোনো গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক আইনসম্মত উদ্যোগে দেশটি আলোচনায় প্রস্তুত থাকবে। গাজায় বেসামরিক নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ প্রশিক্ষণসহ বাস্তবভিত্তিক সহায়তায় ইতালি ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

ইতালির এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর একটি বড় অংশ কার্যত ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ থেকে নিজেদের দূরে রাখছে। এর আগে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও স্পেন একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। যদিও ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ, তবু সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতাই শেষ পর্যন্ত ইতালির অবস্থান নির্ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি পর্ষদকে জাতিসংঘের বিকল্প বা তাকে ছাপিয়ে যাওয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে, এটি বহুপক্ষীয় কূটনীতির প্রচলিত কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে গত জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই পর্ষদে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পসহ ২০ জন নেতা সনদে সই করেছেন। তবে প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ এতে অংশ নেয়নি।

নিচের সারণিতে শান্তি পর্ষদ নিয়ে প্রধান কয়েকটি তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয় তথ্য
পর্ষদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা জানুয়ারি ২০২৬, দাভোস
চেয়ারম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্প
সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ ২০টি
যোগ না দেওয়া ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি
সম্ভাব্য প্রথম বৈঠক ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন
গাজা ইস্যুতে ঘোষিত লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকি

সব মিলিয়ে ইতালির সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের গ্রহণযোগ্যতা ও কাঠামো নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করল। ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর অনুপস্থিতিতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।